নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একটি গণধর্ষণের ঘটনার তদন্ত করছিলেন তিনি। দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারও করা হয় তাঁর নেতৃত্বে। সোমবার ধৃতদের আদালতে তোলার কথা ছিল তদন্তকারী অফিসারের। কিন্তু তার আগেই হাবড়া থানার বারাক থেকে উদ্ধার হল সেই তদন্তকারী সাব ইন্সপেক্টর বিশ্বনাথ সেন (৫৭)-এর ঝুলন্ত দেহ। তাঁর এমন মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। সোমবার বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে।
এদিন নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ডিউটিতে রিপোর্ট করেননি বিশ্বনাথ। তাঁকে ডাকতে সিভিক ভলান্টিয়ার যান বারাকে। দোতলায় বিশ্বনাথের ঘরের দরজা ভেজানো ছিল। ঠেলতেই খুলে যায়। ঘরে এসি চলছিল। দেখা যায়, ঘরের জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় রয়েছেন বিশ্বনাথ। তাঁর পরনে কালো গেঞ্জি আর কালো রংয়ের ট্রাউজার। দুটি পা ক্রস করা রয়েছে মেঝেতে। তাঁকে উদ্ধার করে সহকর্মীরা নিয়ে আসেন হাবড়া হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কী কারণে এই মৃত্যু, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মৃতের পরিবার অবশ্য আত্মহত্যার তত্ত্ব মানতে নারাজ। তদন্তের দায়িত্বে থাকা এই পুলিশ আধিকারিকের মৃত্যুর সঙ্গে গণধর্ষণের মামলার কোনো যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সূত্রের খবর, রবিবার রাত একটা পর্যন্ত গণধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে আইসির সঙ্গে আলোচনাও করেন মৃত বিশ্বনাথ। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলায়। ১৯৯২ সালে কনস্টেবল হিসাবে রাজ্য পুলিশে কর্মজীবন শুরু করেন। স্ত্রী শ্বেতা সেন ও মেয়ে বিনীতা সেনকে নিয়ে ছিল তাঁর সংসার। কনস্টেবল হিসাবে কর্মজীবন শুরু করে পদোন্নতি পেয়ে সাব-ইন্সপেক্টর হন। গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় হাবড়া থানায় যোগ দেন।
বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জে মার্সি বলেন, কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করলেন, তা স্পষ্ট নয়। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতের মেয়ে বিনীতা অবশ্য বাবার আত্মহত্যার তত্ত্ব মানতে নারাজ।