


শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: যে কোনও কাউকে দূর থেকে রং দেওয়া যাবে। রং মাখার পর তিনি যদি চোখ রাঙান তাঁর দিকে তেড়ে যাওয়া যাবে হাতুড়ি উঁচিয়ে। গদার মতো দেখতে হাতুড়ির আকারের এই বহু কাজের কাজী পিচকিরি এই দোলে হু হু করে বিক্রি হচ্ছে বারাসতে। দেখতে অভিনব বলে নজর কাড়ছে সবার। সেটি দেখতে হুবহু একটি পেল্লায় হাতুড়ির মতো। লম্বায় তিন ফুট। কিশোর-কিশোরীরা সবাইকে নির্বিচারে রং মাখাবে বলে খুঁজে খুঁজে কিনছে এই পিচকিরি।
বারাসত শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হল কেএনসি রোড। সেখানে হরিতলা মোড়ে অস্থায়ী ১৫টি রং ও আবিরের দোকান হয়েছে। বিক্রেতারা মুখোশ, আবির, রং পিচকিরি বিক্রি করছেন। ভেষজ আবিরও বিক্রি করছেন। সেখানে দেদার বিক্রি হাতুড়ি পিচকিরির। গ্রামীণ এলাকায় এখনও পিচকিরি দিয়ে রং খেলার যথেষ্ট চল। শিশু থেকে কিশোর, তরুণ থেরে প্রবীণ সবার এখনও ঝোঁক রং খেলার। এখন মা-বাবার সঙ্গে আবির, রং, মুখোশ, পিচকিরি কিনতে যাচ্ছে সবাই। গিয়ে প্রায় সবারই নজর আটকাচ্ছে হাতুড়ি পিচকিরির দিকে।
বারাসতের হরিতলায় বিক্রি হচ্ছে সোনালি রঙের হাতুড়ি। তিন ফুট লম্বা। হাতুড়ির মাথায় আঘাত করার জন্য মোটা একটি অংশ রয়েছে। সেখানেই আছে একটি ছিদ্র। লম্বা হাতুড়ির ভেতর দিয়ে টানা হবে রং। সে রং মজুত হবে। কাউকে লক্ষ্য করে রং দিতে গেলে হাতুড়ির শেষ প্রান্তে দিতে হবে চাপ। তাহলেই রং মেখে একাকার। ছোটু কুণ্ডু নামেন এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘পিচকিরি হাতুড়ির ভালো চাহিদা। দাম খুব একটা বেশি নয়। বড় হাতুড়ির দাম ৪০০ টাকা। ছোটগুলির দাম ২৮০। প্রত্যেকে কমবেশি এটা কিনছেন। হাতুড়ি তৈরি প্লাস্টিকের। কলকাতা থেকে আনা।’ সহজ দে নামে আর একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘হাতুড়ি পিচকিরি খুব আকর্ষণীয়। প্রত্যেকেরই কমবেশি ঝোঁক রয়েছে দেখছি। বাচ্চারা বিশেষ করে কিশোররা এটা বেশি কিনছে। দূর থেকে রং দেওয়া যায়। দিয়ে পালালে ছুটে সহজে ধরতেও পারা যাবে না।’ অয়ন্তিকা রায় নামে এক গৃহবধূ বলেন, ‘এবার অভিনব চমক হাতুড়ি পিচকিরি। আমার মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ওকে এটা কিনে দিলাম। দেখে অবাক হয়ে যাবে নিশ্চিত। জিনিসটা বেশ অন্যরকম।’ শ্রেতা বসু নামে ক্লাস ফাইভের এক ছাত্রী বলে, ‘এটা দিয়ে দু’টো কাজ হবে। অন্যকে ভয় দেখাবো। আর রং দেব। আমি আর দাদা দু’টো কিনলাম হরিতলা বাজার থেকে।’