নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘হাফ প্যান্ট-হাফ শার্ট। পায়ে স্নিকার। টোটাল কুল লুক বাডি’—গড়িয়াহাটে বক্তব্য বছর ছাব্বিশের ক্রেতার। পাশে দাঁড়িয়ে দোকানদার হাসি মুখে বললেন, ‘পুজোর এবার গোটা নয়, আধা পোশাকেরই কদর দেখছি স্যার।’
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘হাফ প্যান্ট-হাফ শার্ট। পায়ে স্নিকার। টোটাল কুল লুক বাডি’—গড়িয়াহাটে বক্তব্য বছর ছাব্বিশের ক্রেতার। পাশে দাঁড়িয়ে দোকানদার হাসি মুখে বললেন, ‘পুজোর এবার গোটা নয়, আধা পোশাকেরই কদর দেখছি স্যার।’
ফলে পুজোয় কয়েক হাজার টাকা খরচ করে ছেলে যদি কয়েকটা হাফ শার্ট আর হাফ প্যান্টের সেট কিনে বাড়ি আসে, ভাববেন না ওটা ঘরে পরার জন্য। ওই জামা আর প্যান্ট পরে হয়তো অষ্টমীর অঞ্জলির প্ল্যান করছে পুত্র। কারণ, এবার পুজোয় গোটা নয়, আধা’রই রমরমা। হাফ ড্রেস এবার পুজোর ‘ফ্যাশনে ইন’। এটাই ট্রেন্ডিং। নিউ মার্কেটজুড়ে ঝোলানো এমন রংবেরঙের পোশাক। বড়বাজারে দোকানিদের হাঁকডাকে কান পাতলে সর্বক্ষণ শোনা যাচ্ছে, ‘টি-শার্ট, শার্ট, কারগো, হাফ প্যান্ট।’ এগুলি মিলিয়ে হল, ‘কো-অর্ড সেট’ (কোঅর্ডিনেটেড সেট)।
মহিলাদের কিন্তু হাফের দিকে নজর নেই। এবার মেয়েদের ফ্যাশনে ‘হট’ আইটেম ‘র্যাপার’। শান্তিনিকেতনী ডিজাইন বেশি কিনছে সবাই। এই বিশেষ ধরনের র্যাপারের সঙ্গে গামছার নকশার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন ডিজাইনাররা। নয়া লুকের জন্য দোকানিরা নামও দিয়েছেন ‘শান্তিনিকেতনী র্যাপার’। বাংলার ধুতিও র্যাপার হিসেবে পরবেন অনেকে।
তাহলে কী দাঁড়াচ্ছে? পুজোয় হাফ প্যান্ট পরে ঘুরবে তরুণ বাঙালিরা? নিউ মার্কেটে দরদাম করতে করতে নিউটাউনের রেহান আদিত্য বললেন, ‘এখন এটাই ফ্যাশন।’ গড়িয়াহাটে দশম শ্রেণির ছেলেকে কো-অর্ড সেট কিনে দিতে গিয়ে বাবা বললেন, ‘কী যুগ পড়ল! আমরা ফুল প্যান্ট পরতে চাইতাম। মা-বাবারা জোর করে হাফ প্যান্ট কিনে দিতেন। এখন দেখছি সব উল্টো!’ কো-অর্ড পোশাকগুলি মূলত হালকা রঙের। সাদার উপর প্রিন্ট বা আলপনার ডিজাইন। নিউ মার্কেটের এক দোকানদার বলেন, ‘সাড়ে তিনশো টাকায় বিক্রি করছি। এ বছর তরুণরা এটাই চাইছেন।’ পোশাক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ‘সেলিব্রিটিদের এয়ারপোর্ট লুক, বিচ লুক দেখেই এটি ফ্যাশন হয়েছে।’ হাতিবাগান, গড়িয়াহাট, বড়বাজারে মেয়েদের জন্যও কো-অর্ড সেট রয়েছে। তবে মেয়েদেরগুলো হাফ নয়, ফুল প্যান্ট। বড়বাজারের এক ব্যবসায়ী বললেন, ‘মেয়েদের কো-অর্ড সেট, নতুন ডিজাইনের গাউন এসেছে। দাম সাড়ে তিনশো থেকে সাড়ে পাঁচশোর মধ্যে।’ মহিলাদের বাজারে বাজিমাত করেছে গড়িয়াহাট। দোকানজুড়ে ঝুলছে নানা ধরনের র্যাপার। ব্যবসায়ী রানা লোধ বললেন, ‘শান্তিনিকেতনী আর ধুতি র্যাপারের চাহিদা দেখছি এবছর। এগুলো আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই বলেই হিট। দাম সাড়ে সাতশো টাকা থেকে শুরু।’
পুজোর দিনগুলি সকলের থেকে নিজেকে আলাদা করে দেখানোর লড়াইয়ে একধাপ এগিয়ে থাকার চেষ্টা সকলেরই কমবেশি থাকে। হাফ প্যান্ট আর র্যাপার এবার এগিয়ে রাখবে নয়া প্রজন্মকে। এই দুই পোশাকই চোখ টানবে অন্যের। তাই গোটা নয় আধা ড্রেসই এবার ‘কুল’।
নিউ মার্কেটের হাফ প্যান্ট ও গড়িয়াহাটে র্যাপার। রবিবার তোলা নিজস্ব চিত্র