Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জমা জলে দু’দিনের দুর্ভোগ হলদিরামে হাওড়া-বরানগর-দমদমেও ভোগান্তি

ভারী হোক কিংবা হালকা, হলদিরামে সার্ভিস রোডে জল জমবেই। মানুষের মুখে মুখে এখন এমন কথাই ঘুরে বেড়াচ্ছে

জমা জলে দু’দিনের দুর্ভোগ হলদিরামে  হাওড়া-বরানগর-দমদমেও ভোগান্তি
  • ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ভারী হোক কিংবা হালকা, হলদিরামে সার্ভিস রোডে জল জমবেই। মানুষের মুখে মুখে এখন এমন কথাই ঘুরে বেড়াচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যার পর মাত্র ২ ঘণ্টার বৃষ্টি হয়েছিল। তাতে মঙ্গলবার পর্যন্ত জমা জলের দুর্ভোগ চলল হলদিরামে। মঙ্গলবার দুপুরের পর পর্যন্ত সার্ভিস রোডে হাঁটুর উপরে জল! পারাপার করতে হিমশিম অবস্থা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তৃণমূল আমলে হলদিরামের জল জমার দুর্ভোগ ছিল। বিজেপির সরকার এসে বাড়তি পাম্পও বসিয়েছে। কিন্তু দুর্ভোগ দূর হয়নি। প্রশাসনের দাবি, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণেই জল জমেছে। অন্যদিকে, সোমবারের বৃষ্টিতে হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকাও জলমগ্ন হয়ে পড়ে। দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে।

Advertisement

হলদিরামের সার্ভিস রোডে জল জমার সমস্যা আজকের নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মানুষের দুর্ভোগের সমাধান করার কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। পালাবদলের পর পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। প্রশাসনের দাবি, স্থায়ী সমাধানের জন্য সময় লাগবে। এখন অস্থায়ীভাবে জল বার করার চেষ্টা হচ্ছে। 
সোমবার রাতের ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে হাওড়া শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। ইছাপুর, ডুমুরজলা, সালকিয়া, লিলুয়া, টিকিয়াপাড়া, কদমতলা রোড থেকে শুরু করে বালি-বেলুড়ের বিভিন্ন অঞ্চলে জল জমে চরম দুর্ভোগ হয়। বহু রাস্তাই কার্যত জলের তলায় চলে যাওয়ায় ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জনজীবন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিকাশিনালা নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় বৃষ্টির জল দ্রুত নামছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। সেই জল জমে থাকছে দীর্ঘক্ষণ। বিশেষ করে নীচু এলাকা হওয়ায় ডুমুরজলা ও ইছাপুরের কোয়ার্টারগুলিতে জল জমার সমস্যা আরও প্রকট বলে অভিযোগ। জল জমার কারণে এদিন ডুমুরজলা হেলিপ্যাড গ্রাউন্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের সূচিতে পরিবর্তন করতে হয়। রামরাজাতলা স্টেশন রোড দীর্ঘক্ষণ জলের তলায় ছিল। নিকাশি ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের বেহাল দশা নিয়ে সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।
বরানগরে বি টি রোডও জলের তলায় চলে যায়। যাতায়াতে তীব্র দুর্ভোগ শুরু হয়। বরানগরের টবিন রোডসহ এ কে মুখার্জি রোড— সব জায়গা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। একই চিত্র দেখা গিয়েছে দক্ষিণ দমদমের বিভিন্ন জায়গায়। পাতিপুকুর, দমদম ও বেদিয়াপাড়া রেলওয়ে আন্ডারপাসে কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত জল দাঁড়িয়ে যায়। উত্তর 
দমদম, সোদপুর, কামারহাটিসহ বিভিন্ন এলাকার নীচু 
জায়গা ও কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া নীচু জমিতে জল জমে। তবে রাতেই সিংহভাগ অংশে জল নেমে যায়। মঙ্গলবার সকালে বরানগরে বি টি রোডে সামান্য জল ছিল।  জলমগ্ন হলদিরাম। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ