ইসলামাবাদ: মুজফ্ফরাবাদ শহর। দশকের পর দশক ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের এই শহর জঙ্গিদের আঁতুড়ঘর রূপে পরিচিত। লস্কর-ই-তোইবার শক্ত ঘাঁটি এই শহরেই। লস্করের ট্রেনিং ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দিতে মঙ্গলবার রাতে এখানে আঘাত হেনেছে ভারত। আর সেই আঘাতে মাটিতে মিশে গিয়েছে লস্করের জঙ্গি তৈরির আখড়া। ভারতীয় গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, এই লস্কর ক্যাম্পটির দায়িত্বে ছিল সংগঠনের প্রধান হাফিজ সইদের ছেলে তালহা। তাহলে ভারতের এই হামলাতে হাফিজ সইদেরও কি মৃত্যু হয়েছে? নানা মহল থেকে এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হামলার পর থেকে হাফিজ বা তালহার কোনও খোঁজ নেই। তাদের মৃত্যু নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করছে না পাকিস্তানের কর্তাব্যক্তিরাও। এমনিতে পাকিস্তানের সেনা প্রশাসনের সঙ্গে লস্কর প্রধান সইদের দহরম মহরম নতুন কিছু নয়। এই অবস্থায় পাক প্রশাসনের নীরবতা সইদের মৃত্যর জল্পনাকে আরও জোরদার করছে। এই নিয়ে মুখ খোলেনি ভারতও। তবে প্রত্যাশার পারদ চড়ছেই। ঘটনাস্থলের ছবি বিশ্লেষণ করে পিতা-পুত্রের পরিণতির বিষয়টি নিশ্চিত হতে চাইছেন গোয়েন্দারা। পাশাপাশি জঙ্গি সহ সব পক্ষের ফোনে আড়ি পাতা হচ্ছে। অপারেশন সিন্দুরে হাফিজ ও তালহার মৃত্যু হলে, তা হবে বিরাট সাফল্য।
গুরুত্বের দিক দিয়ে লস্করের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিটি রয়েছে মুজফ্ফরাবাদেই। সংগঠনের সেকেন্ড ইন কমান্ড হাফিজ-পুত্র তালহা এখানেই জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেয়। ভারতীয় গোয়েন্দারা জানিয়েছেন বৈসরণ উপত্যকায় হামলা চালানো জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ হয়েছিলে এখানেই। তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজটি করেছিল তালহা স্বয়ং। মঙ্গলবার রাতের হামলায় তালহার পাঁচ ঘনিষ্ঠ শাগরেদের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে আব্দুল রহমানও। পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার অন্যতম চক্রী ছিল রহমান।



