সংবাদদাতা, হবিবপুর: কাঁচা রাস্তা বেহাল। বর্ষায় আরও বাজে হাল। এই কারণে দু’বছর আগে এক রোগীকে খাটিয়ায় তুলে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছিল। শনিবার সেটারই পুনরাবৃত্তি হল। হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে কাদা ভরা রাস্তা দিয়ে খাটিয়ায় চেপে হবিবপুর ব্লকের শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পেট্রোলগড়ের রঞ্জিতপুরে ফিরতে হল এক রোগীকে। দীর্ঘ বছর ধরে রাস্তার হাল এত খারাপ থাকলেও নেতাদের কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। এদিন প্রায় দেড় কিমি কাদা ভরা পথ দিয়ে সেই রোগীকে বাড়ি নিয়ে আসেন স্বজনরা। ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। (যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান)।
সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে দু’জন ব্যক্তি রোগীকে একটি খাটিয়ায় তুলে কাদাময় রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। খবর পেয়ে রোগীর আত্মীয়ের খোঁজ করে ফোনে যোগাযোগ করেন হবিবপুরের বিডিও মনোজ কাঞ্জিলাল। রোগীর যে কোনও সমস্যায় প্রশাসনিক সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। বিডিও বলেন, রাস্তাটির বেশ কিছুটা অংশ রেল মন্ত্রকের রয়েছে। পুরো রাস্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখে একটি রিপোর্ট পাঠানো হবে জেলা প্রশাসনের কাছে।
গ্রামে প্রবেশের প্রধান রাস্তা রয়েছে। তারমধ্যে শুরুতে ৩২ মিটার ও শেষের দিকে ৩০ মিটার ঢালাই করা হয়েছে। মাঝের কয়েক কিমি রাস্তা একেবারে বেহাল। বর্ষায় প্রচুর পরিমাণে কাদা জমে সমস্যায় পড়েন পথচারীরা। স্কুলে যেতে গিয়ে জামা কাপড়ে কাদা মাটি লেগে নাজেহাল হতে হয় পড়ুয়াদের। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। কেউ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স ঢোকার মত পরিস্থিতি নেই গ্রামে। রোগীকে কখন চ্যাংদলা করে, আবার কখনও সাইকেলে বসিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় আত্মীয়দের।
প্রশান্ত বেসরা নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, অবিলম্বে গোটা রাস্তা নির্মাণ করা হোক। না হলে আগামীতে বড়সড় আন্দোলন হবে।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রানি সোরেন নামে এক আদিবাসী বধূ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। আত্মীয় ও বাসিন্দারা তাঁকে চ্যাংদলা করে প্রায় দেড় কিমি কাদা রাস্তা পার করে তারপর গাড়িতে করে বুলবুলচণ্ডী আরএনরায় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে একদিন থাকার পর শুক্রবার তাকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন চিকিৎসকরা। সেখানে একদিন থাকার পর শনিবার তিনি ছুটি পান। সেই অবস্থায় গাড়িতে করে পেট্রোলগড় এসে আবার নামাতে হয় রোগীকে। এরপর প্রায় দেড় কিমি কাদা রাস্তায় খাটিয়ায় করে রোগীকে বাড়ি নিয়ে যান আত্মীয়রা। রোগীর স্বামী মনোরঞ্জন হাঁসদা জানান, রাস্তায় কাদা থাকায় গাড়ি যেতে পারেনি। রোগীর শারীরিক অবস্থা এখনও খারাপ। হঠাৎ করে ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে আবার খাটিয়ায় করেই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।