তিনি ছিলেন ‘সব্যসাচী’। চলচ্চিত্র দুনিয়ার সমস্ত বিভাগ তাঁর ম্যাজিকে আচ্ছন্ন হয়েছে। অভিনয়, পরিচালনা, প্রযোজনা... সবক্ষেত্রে তিনি সফল। তিনি গুরু দত্ত। কিংবদন্তি এই পরিচালকের নাচেও সমান আগ্রহ ছিল। বসন্ত কুমার শিবশঙ্কর পাড়ুকোন। এটাই ছিল তাঁর আসল নাম। শৈশবে একবার বড়সড় দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। এরপরই বাড়ির লোক ‘অশুভ’ নাম পাল্টে রাখলেন ‘গুরুদত্ত’। দক্ষিণ ভারতের গুরু ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে আসেন কলকাতায়। ভবানীপুরে। সেই সময় এখানেই চাকরির করতেন তাঁর বাবা। পাড়ায় গুরু দত্তের জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোঁয়া। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই নাচের প্রতি আগ্রহ জন্মেছিল তাঁর। ম্যাট্রিক পরীক্ষার পর চলে যান উত্তরাখণ্ডের আলমোড়ায়। মেঙ্গালুরুতে থাকতেন তাঁর মামা বি বি বেনেগাল। তাঁর সুপারিশেই আলমোড়ায় চলে গিয়েছিলেন গুরু। আলমোড়ায় তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। যোগ দেন উদয়শঙ্কর ব্যালে ট্রুপে। সেখানে আধুনিক নৃত্যশৈলী সম্পর্কে ধারণা পেলেন তিনি। রপ্ত করলেন সেই শৈলী। এরপর পুনেতে যেতে হয়েছিল তাঁকে। সেখানে একটি ফিল্ম কোম্পানিতে তিন বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেন। কী কাজ? নৃত্য পরিচালক। পিএল সন্তোষীর ‘হাম এক হ্যায়’ ছবির কোরিওগ্রাফি করেছিলেন গুরু। সেই ছবিতে কাজ করেন দেব আনন্দ। নৃত্য পরিচালক হিসেবে কাজ করতে করতেই ছবি তৈরিতে আগ্রহ জন্মায় গুরুর। বাকিটা ইতিহাসের পাতায়। যা আজও মনে রেখেছেন আপামর দেশবাসী। দু’দিন পরই তাঁর জন্ম শতবার্ষিকী।



