আমেদাবাদ: দিল্লিতে ‘বিদ্রোহ’, গুজরাতে বিড়ম্বনা! দিল্লিতে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ বাহিনীতে নাম লিখিয়েছেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান। ক্ষমতাসীন এনডিএ শিবিরের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। যদিও তাঁর শিবির বদল সংক্রান্ত রিপোর্টের মধ্যেই গুজরাত হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে ভারতীয় ক্রিকেট দলের এই প্রাক্তন অলরাউন্ডার। সরকারি জমি জবরদখলের অভিযোগে বিড়ম্বনা বাড়ল তাঁর। মামলার শুনানি আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত মুলতুবি করেছে আদালত। তবে তার আগে ইউসুফ পাঠানের আইনজীবীকে বিচারপতিরা মৌখিকভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘বরাদ্দ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়াই সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলের কারণে ক্ষতিপূরণের (ভাড়া) জন্য তৈরি থাকুন।’
গত বছর হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ ইউসুফ পাঠানকে ‘দখলদার’ বলে তোপ দেগেছিল। পুরসভাকে নির্দেশ দিয়েছিল, ভদোদরার সংশ্লিষ্ট সরকারি বাস্তুজমি প্রাক্তন ক্রিকেটারের ‘দখল’ থেকে মুক্ত করতে হবে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পালটা আবেদন করেছিলেন ইউসুফ। সেই আবেদনের শুনানিতেই সোমবার গুজরাত হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুনীতা আগরওয়াল ও বিচারপতি ডি এন রায়ের বেঞ্চ বহরমপুরের সাংসদের তীব্র সমালোচনা করেছে। আদালতের মৌখিক পর্যবেক্ষণ, ‘আপনি কীভাবে ওই জমির দখল নিতে পারেন? আপনার নামে ওই জমি বরাদ্দ হয়নি। আপনি একটা কানাকড়িও দেননি। জমিটি বরাদ্দের প্রস্তাব সরকারের কাছে যাওয়ার পর তা খারিজ হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ওই জমিতে প্রবেশ করলেন কীভাবে? আপনার আবেদন খারিজের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’
বিতর্কের কেন্দ্রে ইউসুফ পাঠানের বাংলো লাগোয়া একটি ফাঁকা জমি। পরিবারের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২০১২ সালে ভদোদরা পুরসভার (ভিএমসি) কাছে প্রাক্তন ক্রিকেটারের আবেদন ছিল, বাসভবন সংলগ্ন জমিটি বাজারদরের বিনিময়ে তাঁকে বরাদ্দ করা হোক। সেই মোতাবেক জমির বাজারদর নির্ধারণ করে ইউসুফের প্রস্তাব বিবেচনার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে পাঠায় পুর কর্তৃপক্ষ। ২০১৪ সালে গুজরাত সরকার সেই প্রস্তাব খারিজ করা সত্ত্বেও ইউসুফ ওই জমিটি নিজের দখলে রেখে দেন বলে অভিযোগ। কিন্তু ২০২৪ সালে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে বহরমপুর লোকসভা আসনে তিনি জয়ী হওয়ার ঠিক দু’দিন পর ভদোদরার কাউন্সিলার জমি দখলের ইস্যুটি ফের উত্থাপন করেন। যদিও ইউসুফের দাবি ছিল, জমি বরাদ্দের আবেদন রাজ্য সরকার যে খারিজ করেছে, সেকথা ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁকে জানানোই হয়নি। এই ইস্যুতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। যদিও সিঙ্গল বেঞ্চ আবেদন খারিজ করার পর এবার ডিভিশন বেঞ্চও এই ইস্যুতে ইউসুফকে ভর্ৎসনা করল।