Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দেশভাগের যন্ত্রণা স্মরণে কর্মসূচি পালনের নির্দেশিকা লোকভবনের, মোমবাতি মিছিল করতে বলল নবান্ন

দেশভাগের যন্ত্রণাকে স্মরণ করতে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে লোকভবন এবং নবান্ন।

দেশভাগের যন্ত্রণা স্মরণে কর্মসূচি পালনের নির্দেশিকা  লোকভবনের, মোমবাতি মিছিল করতে বলল নবান্ন
  • ১০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশভাগের যন্ত্রণাকে স্মরণ করতে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে লোকভবন এবং নবান্ন। সেই সূত্রে আচার্য হিসাবে বিশ্বাবিদ্যালয় এবং এর অধীনস্থ কলেজগুলিতে ১৪ আগস্ট ‘দেশভাগ বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ পালনের নির্দেশ দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। আর নবান্নের তরফে প্রতিটি জেলায় নির্দেশিকা পাঠিয়ে বলা হয়েছে, ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় জেলা সদরে মোমবাতি মিছিল আয়োজন করতে হবে। সরকারি এই নির্দেশ সামনে আসার পর সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা। তাঁদের একাংশ মনে করছে, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের একমাত্র এজেন্ডা হয়ে উঠেছে কংগ্রেসকে আক্রমণ ও খোঁচা দেওয়া। সব মিলিয়ে ১৩ ও ১৪ আগস্টের কর্মসূচি পালনের ‘ফরমান’ নয়া বিতর্ক উসকে দিয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, জন্মদিন বা সূচনার দিন সাড়ম্বরে পালিত হয়। কিন্তু যে দিনটি বাঙালিসহ আপামর দেশবাসীর কাছে যন্ত্রণার, সেই দেশভাগের দিবস উদযাপন আসলে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যই। 

Advertisement

রবিবার লোকভবনের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাদের অধীনস্থ কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ১৪ আগস্ট ‘দেশভাগ বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ পালন করা হোক। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক একত্রিত হয়ে দেশভাগের ভয়াবহতা এবং বাংলার উপর তার গভীর প্রভাবকে স্মরণ করতে হবে। লোকভবনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘দেশভাগের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বাংলা। লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হন। প্রাণ হারান অনেকে। সামাজিক পরিসর গভীর ক্ষতির মুখে পড়ে। ইতিহাসের এই অন্ধকার অধ্যায় তরুণ প্রজন্মকে জানতে হবে এবং বিভাজন সৃষ্টিকারী শক্তিগুলি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।’  পাশাপাশি, রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তরফে প্রত্যেক জেলাশাসককে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় জেলা সদরে মোমবাতি মিছিল আয়োজন করতে হবে। সরকারি কর্মী-আধিকারিক, ছাত্রছাত্রী, সাংস্কৃতিক-সমাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির জন্য প্রতি জেলাকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। দেশভাগের যন্ত্রণা, ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরতেই এই কর্মসূচি বলে জানানো হয়েছে। 
বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে, ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি সরকার। স্বাধীনতা দিবসকে যথাযথ গুরুত্ব ও সম্মানের সঙ্গে পালন করার তোড়জোড়ও চলছে। সেখানে আলাদা রাষ্ট্র হিসাব পাকিস্তানের আত্মপ্রকাশের দিনটি (১৪ আগস্ট) কেন স্মরণীয় করে রাখা হচ্ছে? প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের কথায়, ‘দেশভাগের যন্ত্রণা আমাদের হৃদয়কে বিদীর্ণ করে আজও। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সাড়ম্বরে সেই দিন পালনের যে নির্দেশ রাজ্যপাল দিয়েছেন, তার তীব্র নিন্দা করছি। আর স্বাধীনতার পর যারা নিজেদের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা তোলেনি, সেই আরএসএসের মেকি দেশপ্রেম আসলে ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা। যাঁদের স্বাধীনতা আন্দোলনে ন্যূনতম অংশগ্রহণ নেই, তাঁরা আজ দেশভাগ নিয়ে চিৎকার করছে। এটা লজ্জা!’ তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করব। দেশভাগ দিবস কেন পালন হবে? ক্ষততে খোঁচা দিলে ক্ষত তো বৃদ্ধি পায়!’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ