নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কোম্পানির জিএসটি বাকি প্রায় সাত কোটি টাকা। অভিযোগ, করখেলাপি ওই কোম্পানির মালিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নাকি ৩৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এমনই অভিযোগ পেয়ে হাওড়ার ডোমজুড়ে কোম্পানির মালিকের বাড়িতে হানা দেন জিএসটি কর্তারা। তবে গিয়েই চক্ষু চড়কগাছ তাঁদের। কোম্পানির মালিক কার্তিক রুইদাস সামান্য এক কারখানার শ্রমিক! মাসে দশ হাজার টাকাও রোজগার নয় তাঁর। কার্তিকবাবুর নথি জাল করে বড়সড় আর্থিক তছরুপের ঘটনা ঘটেছে, বুঝতে পারেন তাঁরা। এই ঘটনায় আতঙ্কিত কার্তিকবাবু। রবিবার রাতে ডোমজুড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
কার্তিক রুইদাস ডোমজুড়ের জালান কমপ্লেক্সের একটি কারখানায় কাজ করেন। গত সপ্তাহে আচমকা তাঁর খাটোরা পূর্বপাড়ার বাড়িতে হানা দেন জিএসটি দপ্তরের ছ’জন আধিকারিক। অন্যান্য দিনের মতো সেই সময় কারখানায় কাজ করছিলেন কার্তিকবাবু। স্ত্রীর ফোন পেয়ে কাজ ফেলে তড়িঘড়ি বাড়িতে ছুটে আসেন। জিএসটি আধিকারিকরা তাঁকে জানান, কার্তিক রুইদাসের কেডি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সংস্থা রয়েছে। বছরে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে এই কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। অথচ জিএসটির সাত কোটি টাকা ফাঁকি দিয়ে দিব্যি ব্যবসা চালাচ্ছে কোম্পানি। কার্তিক রুইদাসের নামে থাকা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ও জিএসটি নম্বরের যাবতীয় প্রমাণ দেখান সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা। এসব শুনেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে কার্তিকবাবুর। তিনি আধিকারিকদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, একটি কারখানায় কাজ করে মাসে মাত্র ৯৫০০ টাকা রোজগার করেন তিনি। তাতেই সংসার চলে। এরপর কার্তিকবাবুর ফোন বাজেয়াপ্ত করে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর জিএসটির আধিকারিকরা বুঝতে পারেন, কার্তিক রুইদাসের আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বর, বিদ্যুতের বিলকে কাজে লাগিয়ে তাঁর নামে ভুয়ো কোম্পানি খোলা হয়েছে। দ্রুত কার্তিকবাবুকে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন আধিকারিকরা। এরপর এক আইনজীবীর পরামর্শে ডোমজুড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কার্তিকবাবু। তিনি বলেন, ‘করোনার সময় প্রায় দেড় বছর আমার কাজ ছিল না। সেই সময় কাজের খোঁজে বিভিন্ন কোম্পানিতে যাবতীয় নথিপত্রের ফটোকপি সহ সিভি দিয়েছিলাম। সেখান থেকেই হয়তো কোনও জালিয়াতি হয়ে থাকতে পারে। পুলিস তদন্ত করে দেখুক।’ নিজের অজান্তেই যে তিনি একটি কোম্পানির মালিক হয়ে উঠেছিলেন, এমনটা জানতে পেরে খানিকটা মশকরাও করেন তিনি। বলেন, ‘আমার কোম্পানিতে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। অথচ স্ত্রী সন্তান নিয়ে কত কষ্টে রয়েছি আমি। এমনটাও হয়!’ পুলিস জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভুয়ো কোম্পানি খুলে সাইবার জালিয়াতি করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।