Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গয়েশপুরে শুরু হল কুলিয়া পাটের মেলা

গয়েশপুরে শুরু হল কুলিয়া পাটের মেলা
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কল্যাণী: বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে গয়েশপুরের ঐতিহ্যবাহী কুলিয়া পাটের মেলা। প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছরের প্রাচীন এই মেলা। দশ দিনব্যাপী মেলাটি গয়েশপুরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বিলের পাশে হয়। এটি অপরাধ ভঞ্জন-এর মেলা নামেও পরিচিত। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা বুধবারই আসা শুরু করেছিলেন। এদিন সকালে বিলের জলে স্নান করে পুজো দেন তাঁরা। মেলা উপলক্ষে মোতায়েন রয়েছে পুলিস। জানা যায়, এখানে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আগমণকে স্মরণে রাখতে মজে যাওয়া যমুনা নদীর পাশে প্রতি বছর পৌষ মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে বসে এই মেলা। কথিত আছে, দেবানন্দ নামের এক সন্ন্যাসী এই কুলিয়া গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। তিনি শ্রীমদ্ভাগবত পড়াতেন। তাঁর বাড়িতে একদিন ভাগবতের ব্যাখ্যা শুনতে শ্রীচৈতন্যদেবের অনুগামী শ্রীবাস আসেন। ব্যাখ্যা শুনতে শুনতে তিনি প্রেমাবিষ্ট হয়ে উচ্চস্বরে কাঁদতে লাগেন। সেটাকে পাগলামি ভেবে দেবানন্দ ও তাঁর ছাত্ররা শ্রীবাসকে মারতে মারতে বাড়ির বাইরে বের করে দেন। এরপরই দেবানন্দ কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হন। পরে শ্রীবাসের প্রতি তাঁর ব্যবহারের জন্য অনুশোচনা হয় দেবানন্দের। এরপর যমুনা নদীর এই কুলিয়া এলাকায় তিনি শরীরে কুষ্ঠ রোগ নিয়ে সাধনা শুরু করেন। এক সময় শ্রীচৈতন্যদেব ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় দেবানন্দ তার দুঃখের কথা মহাপ্রভুর কাছে নিবেদন করেন মুলো, পালং শাক ও চাল দিয়ে। সব শুনে মহাপ্রভু তাঁকে যমুনার জলে ডুব দিয়ে আসতে বলেন। ডুব দেওয়া মাত্র দেবানন্দের কুষ্ঠ রোগ দূর হয়। এরপর সারারাত সেখানে হরিনাম সংকীর্তন করেন মহাপ্রভু। কয়েক বছর পর এই তিথিতেই দেবানন্দ দেহত্যাগ করেন। এইভাবে অপরাধভঞ্জন হয় তাঁর। পরবর্তীকালে এখানে মেলা শুরু হয়।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ