


অমৃতসর, ১৫ মার্চ: পাঞ্জাবে অশান্তি সৃষ্টির জন্য ক্রমশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। গত কয়েক দিনের ঘটনা যেন তেমনই ইঙ্গিত করছে। শুক্রবার মধ্যরাতে অমৃতসরের একটি মন্দিরে হামলা চালাল দুষ্কৃতীরা। খান্ডওয়ালা এলাকার ঠাকুর দুয়ারা মন্দিরে হ্যান্ড গ্রেনেড ছোঁড়ে তারা। এই ঘটনায় হতাহতের কোনও ঘটনা না ঘটলেও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার পুরো দৃশ্য সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এই ঘটনার পিছনে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের যোগ থাকতে পারে বলে প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান।
গত চার মাসে পাঞ্জাবে একাধিক গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুষ্কৃতীদের টার্গেট ছিল পুলিস। এবার মন্দির লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটল। এই প্রসঙ্গে অমৃতসরের পুলিস কমিশনার গুরপ্রীত ভুল্লার বলেন, ‘এর আগেও বহুবার এমন ঘটনার সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই যোগাযোগ সামনে এসেছে। গ্রেনেড হামলার ঘটনায় জড়িতদের সন্ধানে জোর তল্লাশি চলছে। তাদের ধরতে সমস্ত ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’
সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গিয়েছে, শুক্রবার রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে একটি বাইকে চেপে দুই দুষ্কৃতী মন্দিরের সামনে এসে দাঁড়ায়। এক দুষ্কৃতী বাইক থেকে নেমে মন্দির লক্ষ্য করে হ্যান্ড গ্রেনেড ছোঁড়ে। তারপরই বাইক চালিয়ে দু’জনে দ্রুত এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।
মন্দিরে হামলার তীব্র নিন্দা করেছে শিরোমণি অকালি দল। গোটা ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন দলজীৎ চীমা। রাজ্যে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার জন্য পরিকল্পনা করে এমন ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই বিরোধী নেতা। যদিও তা মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। তাঁর অভিযোগ, ‘মাঝেমধ্যেই এরকম হামলা চালিয়ে পাঞ্জাবকে অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। মাদক পাচারের বিষয়টিও এর সঙ্গে জড়িত। তবে পাঞ্জাব পুলিস যথেষ্ট সক্রিয়। তাদের হাতে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই।’