Bartaman Logo
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাতিকে বাঁচিয়ে নদীতে তলিয়ে মৃত্যু দাদুর, নারায়ণগড়ে আমডিহায় পাকা সেতুর দাবি

নাতিকে বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন দাদু। উদ্ধারও করেন নাতিকে

নাতিকে বাঁচিয়ে নদীতে তলিয়ে মৃত্যু দাদুর, নারায়ণগড়ে আমডিহায় পাকা সেতুর দাবি
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বেলদা: নাতিকে বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন দাদু। উদ্ধারও করেন নাতিকে। তাকে নিরাপদে পাড়ে তুলে দেওয়ার পরই কেলেঘাই নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হয়ে যান বছর ৬০-এর সূর্য কোটাল। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর অবশেষে তাঁর দেহ উদ্ধার হল। ঘটনায় নারায়ণগড়ের আমডিহা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Advertisement

বর্ষার জলে আমডিহার কেলেঘাই নদীর উপর থাকা বাঁশের সাঁকো ভেসে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই গ্রামবাসীদের নদী পারাপার করতে হচ্ছে। বুধবার স্ত্রী চায়না কোটাল ও নাতি সঞ্জয় নায়েককে সঙ্গে নিয়ে নদী পার হচ্ছিলেন সূর্যবাবু। মাঝপথে প্রবল স্রোতের টানে দু’জনেই বিপাকে পড়েন। নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নাতিকে কোনোরকমে নিরাপদে পাড়ে তুলে দেন দাদু। এরপরই স্রোত তাঁকে টেনে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে নারায়ণগড় থানার পুলিশ ও রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা তল্লাশি শুরু করেন। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর যেখানে তিনি তলিয়ে গিয়েছিলেন সেখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রেল ব্রিজের আগে নদীতে তাঁর দেহ ভেসে ওঠে। বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা দেহ উদ্ধার করেন। 
স্থানীয়দের দাবি, এই একই জায়গায় কয়েক বছর আগে সূর্যবাবুর বোনও নদী পার হতে গিয়ে তলিয়ে গিয়েছিলেন। বারবার দুর্ঘটনা সত্ত্বেও এখনো স্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা হয়নি। বাঁশের সাঁকো ভেসে যাওয়ায় প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। 
দ্রুত বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণের দাবি তাঁরা তুলেছেন। তাঁদের দাবি, স্থায়ী সেতু তৈরি না হলে ভবিষ্যতে আরও বড়ো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমরা ওই পরিবারটির পাশে রয়েছি। স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে। 
 উদ্ধারকারী দল।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ