পাঁচবার অস্কার মনোনীত হয়েছিলেন অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্ন। ‘রোমান হলিডে’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জিতেছিলেন শিল্পী। সালটা ১৯৫৩। এই অভিনেত্রী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কাজ করেছিলেন গুপ্তচর হিসেবে! নাৎসি দখলদারির বিরুদ্ধে ডাচ প্রতিরোধ বাহিনীর জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে ব্যালে মঞ্চস্থ করতেন কিশোরী অড্রে। রবার্ট ম্যাটজেনের লেখা ‘ডাচ গার্ল’ বই থেকে জানা যায় তাঁর গুপ্তচর হওয়ার কাহিনি। ১৫ বছর বয়সি অড্রেকে একটা শর্ত দেওয়া হয়েছিল, নাৎসি শিল্পীদের ইউনিয়ন ‘কাল্টরকামার’-এ যোগ দিতে হবে। নয়তো প্রকাশ্যে নাচ বন্ধ করতে হবে। নাৎসিদের সঙ্গে যোগ দেবেন না বলে নাচের পারফরম্যান্স বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তবে পুরোপুরি নাচ ছাড়তে পারেননি। লুকিয়ে আয়োজন করা হতো ব্যালের। সেই অনুষ্ঠানে মৃদু সুরে বাজত পিয়ানো। দর্শককে হাততালি দিতেও নিষেধ করা হতো। অনুষ্ঠান থেকে প্রাপ্য অর্থ দিয়েই নাৎসি বিরোধী প্রতিরোধ বাহিনীর কাজ চলত। ১৯৪৪ সালে হেনড্রিক বিশার হুফ্ট নামক এক চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন হেপবার্ন। তাঁকে দিয়েই মিত্রবাহিনীর সদস্যদের কাছে গোপনে খবর পাঠাতেন চিকিৎসক। একবার একজন ব্রিটিশ প্যারাট্রুপারের সঙ্গে দেখা করতে জঙ্গলে যেতে হয়েছিল তাঁকে। হেপবার্নের মোজার ভিতর লুকানো ছিল সাংকেতিক বার্তা। বৈঠকের পর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসার সময় তিনি দেখেছিলেন, ডাচ পুলিস এগিয়ে আসছে। তৎক্ষণাৎ উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগালেন। মাটিতে বসে ফুল কুড়াতে লাগলেন। ডাচ পুলিস তাঁর কাছে আসতেই এগিয়ে দিলেন ফুলটা। হেপবার্নের লাস্যময়ী ভঙ্গি দেখে তাঁকে আর কোনও প্রশ্ন করেননি পুলিসকর্মীরা।



