Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

গোঁফের বদলে ধুতি  

গোঁফের বদলে ধুতি
 
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালি’ মুক্তির বছরেই মুক্তি পেয়েছিল তাঁর প্রথম ছবি—‘রাত-ভোর’। তবে এ ছবির সঙ্গে মৃণাল সেন নিজের আত্মার যোগ পাননি। তাঁকে ভাবিয়েছিল সত্যজিতের সিনেমা দর্শন। নিজের মতো করে ছবি তৈরির চিন্তাভাবনা শুরু করেন তখন থেকেই। শোনা যায়, মৃণালের বই ‘চার্লি চ্যাপলিন’-এর প্রচ্ছদ করে দিয়েছিলেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়। তার জন্য নাকি পারিশ্রমিক নেননি তিনি। ছবিটি আনতে সত্যজিতের বাড়িতে গিয়েছিলেন মৃণাল। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করেছিলেন, ‘কত টাকা দেব আপনাকে?’ সত্যজিৎ জবাবে বলেন, ‘এক কাপ চা আর সিগারেট খান আমার সঙ্গে।’ মৃণাল সেন উপলব্ধি করেন, সত্যজিৎ রায় পারিশ্রমিকের কথা তুলতে চান না। দু’জনের বন্ধুত্ব গড়িয়েছিল শেষ বয়স পর্যন্ত। শোনা যায়, ‘ভুবন সোম’ ছবিটির সময় নাকি গোঁফ পাঠিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়। ১৯৬৮ সালে এই ছবির শ্যুটিং করতে গুজরাতে গিয়েছিলেন মৃণাল। সেখানে একজন অভিনেতার গোঁফের প্রয়োজন পড়েছিল। চরিত্র নির্মাণে মৃণাল সেন ছিলেন অত্যন্ত খুঁতখুঁতে। গোঁফ তাঁর চাই-ই। কী করা যায়? কিছুতেই জুতসই গোঁফ মিলছে না। বিষয়টি জানতে পেরে শেষ পর্যন্ত মুশকিল আসান করেন সত্যজিৎ রায়। সেই খবর মৃণালের কাছে পাঠালেন তাঁর সহকারী। লিখলেন, ‘দু’ দিনের মধ্যে গোঁফ পাঠাচ্ছেন সত্যজিৎ রায়।’ শোনা যায়, এই গোঁফের ঋণশোধও নাকি করেছিলেন মৃণাল সেন। সে আরেক কাণ্ড! সালটা ১৯৮৩। কান চলচ্চিত্র উৎসবে সত্যজিৎ রায় পাবেন লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড। ফ্রান্সে পৌঁছন সত্যজিৎ। সেখানে গিয়ে পরিচালক শুনলেন, ড্রেস কোড স্যুট। শুনেই বেঁকে বসলেন সত্যজিৎ রায়। তিনি পরবেন ধুতি-পাঞ্জাবি। কিন্তু সেখানে ধুতি-পাঞ্জাবি পাবেন কোথায়? বিজয়া রায় ফোন করলেন মৃণাল সেনকে। অনুরোধ করলেন, সত্যজিৎ রায়ের জন্য ধুতি-পাঞ্জাবি ও শাল নিয়ে যেতে। মৃণাল সেগুলি নিয়ে গিয়েছিলেন বন্ধুর জন্য।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ