Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরুলিয়া: মোড়ে মোড়ে ভাড়াটে লোক, বালিঘাটগুলিতে অভিযানে গিয়ে নাস্তানাবুদ অফিসাররা

জনপ্রিয় ‘পুষ্পা’ ছবির সেই দৃশ্যটার কথা মনে আছে? পুলিস হানা দিয়েছে জঙ্গলে। কিন্তু ফোনে সে খবর আগেই পেয়ে গিয়েছে পুষ্পারাজ। তড়িঘড়ি বিরল লাল চন্দনের গুঁড়ি ভাসিয়ে দেওয়া হয় নদীতে।

পুরুলিয়া: মোড়ে মোড়ে ভাড়াটে লোক, বালিঘাটগুলিতে অভিযানে গিয়ে নাস্তানাবুদ অফিসাররা
  • ১১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: জনপ্রিয় ‘পুষ্পা’ ছবির সেই দৃশ্যটার কথা মনে আছে? পুলিস হানা দিয়েছে জঙ্গলে। কিন্তু ফোনে সে খবর আগেই পেয়ে গিয়েছে পুষ্পারাজ। তড়িঘড়ি বিরল লাল চন্দনের গুঁড়ি ভাসিয়ে দেওয়া হয় নদীতে। বোকা বনে যান উর্দিধারীরা। পরে জল থেকে সেই কাঠ তুলে নেয় পুষ্পা। একেবারে সেইরকম কায়দাতেই পুরুলিয়া জেলাজুড়ে চলছে অবৈধ বালির কারবার। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা ‘লোকেশনে’ পৌঁছনোর আগেই সেই খবর চলে যাচ্ছে কারবারিদের কাছে। অভিযানে গিয়ে নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে আধিকারিকদের।

Advertisement

অনুমোদন ছাড়াই কংসাবতী নদীর বিভিন্ন ঘাটে রাতের অন্ধকারে রমরমিয়ে বালি উত্তোলন চলছে বলে অভিযোগ। অবৈধ করবার চলছে অনুমোদিত ঘাটগুলিতেও। বহু ট্রাকে থাকছে না বৈধ চালান। চলছে ওভারলোডিং। খারাপ হচ্ছে এলাকার গ্রামীণ রাস্তা। কিন্তু, তার বিরুদ্ধে পুলিস, প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ জমা পড়েছে নবান্নে। সেই অভিযোগ জেলায় আসতেই নড়েচড়ে বসেছে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে আচমকা অভিযানও শুরু করেছেন প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা। কিন্তু আধিকারিকরা বালি ঘাটে পৌঁছনোর আগেই সবকিছু ‘ক্লিয়ার’। যেন কিছুই হয়নি। কিছু না পেয়ে আধিকারিকদের ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। 
কীভাবে খবর পাচ্ছে বালির কারবারিরা? উত্তরটা খুবই সহজ, আসলে সরকারি আধিকারিকরা কোন রাস্তায় থাকবেন, কোন পথে অভিযান চালাবেন, সেই খবর আগেই পৌঁছে যায় তাদের কাছে। তার জন্য রয়েছে ‘লোকেশন পার্টি’। বালির কারবারে এদের অনেকে ‘পাসিং পার্টি’ বলেও ডাকে।
অবৈধ বালি বোঝাই ট্রাক ধরা পড়লেই গুনতে হয় মোটা টাকা জরিমানা। কিন্তু, তার ভয়ে তো আর অবৈধ করবার বন্ধ করতে পারে না কারবারিরা। লাভের গুড় যে বড়ই মধুর। তাই পরিবহণ দপ্তর, ভূমিদপ্তর কিংবা প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা কোন পথে অভিযান করবেন, সেই খবর পেতে ‘লোকেশন পার্টির’ সাহায্য নিতে হয় কারবারিদের। তার জন্য প্রতি মাসে গুনতে হয় মোটা টাকাও। সূত্রের খবর, বালিঘাটে পৌঁছতে যে কয়েকটি রাস্তা রয়েছে, সেগুলির প্রতিটি মোড়ে রয়েছে এইসব ভাড়াটে এজেন্টরা। কোনও আধিকারিক বিশেষ অভিযানে নেমেছেন কি না, তাঁদের বর্তমান অবস্থান কোথায়, গাড়ি কোন রাস্তা ধরে এগিয়ে যাচ্ছে, গাড়ির নম্বর কত? মোবাইল মারফত সেইসব খবর পৌঁছে যায় কারবারিদের কাছে। ফলে অভিযানের ফায়দা তুলতে পারেন না আধিকারিকরা। অবৈধ কারবার চলতেই থাকে।
সম্প্রতি পুরুলিয়ার বিভিন্ন বালিঘাটে অভিযানে গিয়েছিলেন মহকুমা শাসক উত্পল ঘোষ। একবার নয়, একাধিকবার। তিনিও বলছিলেন, ‘যেকোনও অভিযানে নামার আগে নানা পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু, ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগে সেই খবর কারবারিরা পেয়ে গেলে সাফল্য পাওয়া মুশকিল। তাই হচ্ছে।’ আর এক আধিকারিক বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষে তো আর ২৪ঘণ্টা সিসি ক্যামেরার মতো নজরদারি রাখা সম্ভব নয়। তবে, আমরা চেষ্টা করছে অবৈধ কারবার বন্ধ করার।’  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ