নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: জেলায় পেঁয়াজের উৎপাদন তুলনামূলক কম। চাহিদা পূরণে দুই তৃতীয়াংশ পেঁয়াজ ভিনরাজ্য থেকে আমদানি করতে হয়। সেক্ষেত্রে এবার বীরভূম জেলা পেঁয়াজ উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথে হাঁটতে শুরু করেছে। আত্মনির্ভরশীলতার ক্ষেত্রে সংরক্ষণ অত্যাবশ্যক। সেক্ষেত্রে এবার জেলাজুড়ে পেঁয়াজের গোলা তৈরিতে চাষিদের আর্থিক অনুদান দিয়েছে কৃষি বিপণন দপ্তর। ৫০ শতাংশ সরকারি অনুদান পেয়ে জেলায় ৭৯জন চাষি ইতিমধ্যে গোলা তৈরি করেছেন। এছাড়াও ক্লাস্টার ভিত্তিক আরও ৮টি গোলা তৈরি করা হয়েছে। নয়া অর্থবর্ষের শুরু থেকে ওই গোলাগুলিতে পেঁয়াজের সংরক্ষণ শুরু হবে। সর্বমোট ২ হাজার ১৭৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। জেলা কৃষি বিপণন দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এতদিন জেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে উপযুক্ত কোনও ব্যবস্থা ছিল না। তবে দপ্তরের তরফে ভর্তুকি দিয়ে চাষিদের গোলা তৈরির ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলায় ৮৭টি গোলা তৈরি হয়েছে। চাষিরা সেসব গোলায় উৎপাদিত পেঁয়াজ মজুত করতে পারবেন। সময় ও চাহিদা অনুসারে আগামীতে বিক্রির সুযোগ পাবেন। এতে চাষিরা লাভের মুখ দেখবেন। সংরক্ষণের অভাবে ক্ষতির আশঙ্কা করে তাঁদের অভাবী বিক্রির মুখে পড়তে হবে না।
জেলায় ১ হাজার ৮৯২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়। এরমধ্যে খয়রাশোল, দুবরাজপুর, নানুর, মুরারই-১ ও ২ ব্লকে বেশি পেঁয়াজের চাষ হয়ে থাকে। এছাড়াও জেলার একাধিক এলাকায় অল্প বিস্তর পেঁয়াজ চাষও হয়ে থাকে। জানা গিয়েছে, জেলাজুড়ে সর্বসাকুল্যে ৫৩ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ চাষ হয়। যা চাহিদার তুলনায় অনেকটাই কম। সেক্ষেত্রে চাহিদা মেটাতে প্রতি বছরই মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটক থেকেই মূলত পেঁয়াজের আমদানি করা হয়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে জেলার চাষিদের পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী করার কাজ শুরু হয়েছে। সেক্ষেত্রে শুরুতেই লক্ষ্য করা হয়েছে পেঁয়াজ সংরক্ষণের কোনও বন্দোবস্ত না থাকায় চাষিরা পেঁয়াজ চাষে খুব একটা আগ্রহী নন। সমস্যা সমাধানে পেঁয়াজের গোলা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী গোলা তৈরিতে চাষিদের মাথাপিছু ৬৩ হাজার ৫০৩ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। ৫০ শতাংশ সরকারি অনুদান মিলতেই ইতিমধ্যে চাষিদের তরফে ১৯/১২ ফুটের গোলা তৈরি করা হয়েছে। এপ্রিল মাস থেকেই সেসব গোলায় পেঁয়াজ মজুতের কাজ শুরু হবে। প্রতিটি গোলায় সর্বোচ্চ ২৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুত করা সম্ভব হবে।
চতুর্দিকে ছিদ্রযুক্ত ইটের দেওয়াল। উপরে খড়ের ছাউনি। ভেতরে কংক্রিটের মেঝে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি এই গোলায় দীর্ঘ সময় ধরে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সংরক্ষণের জন্য গোলার ভেতরে মূলত গাছসহ পেঁয়াজ বাঁশের স্ট্রাকচারের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। জেলার ৭৯টি গোলা ব্যক্তি মালিকানাধীনে রয়েছে। বাকি ৮টি গোলা ক্লাস্টার ভিত্তিক গড়ে তোলা হয়েছে। সেসব গোলায় একসঙ্গে ১০ জন চাষি পেঁয়াজ সংরক্ষণের সুযোগ পাবেন। খয়রাশোল ব্লকের চাষি সজল মণ্ডল বলেন, পেঁয়াজের গোলা তৈরি হওয়ায় খুব উপকার হয়েছে। এবার থেকে উৎপাদিত পেঁয়াজ সঠিক উপায়ে মজুত করতে পারব। এতে অনেকটাই লাভবান হতে পারব। প্রতীকী ছবি