স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান কার্ড ফেরাচ্ছেন সরকারি কর্মীরা
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা মিলবে যে কোনো একটি কার্ড থেকেই। তাই সরকারি কর্মীদের স্বাস্থ্যসাথী বা আয়ুষ্মান কার্ড ফেরাতে হিড়িক পড়ে গিয়েছে। আরামবাগ মহকুমায় পুরসভা ও ব্লকগুলিতে গিয়ে নিজেদের অতিরিক্ত স্বাস্থ্যবিমার কার্ড ফেরাচ্ছেন সরকারি কর্মীরা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যেসব কর্মী সরকারি হেলথ স্কিমের আওতায় রয়েছেন। তাঁদের আবার অনেকের স্বাস্থ্যসাথী বা আয়ুষ্মান ভারতের কার্ডও রয়েছে। এক্ষেত্রে যে কোনো একটি বিমা কার্ডের সুবিধা পাবেন সরকারি কর্মীরা। এমনই নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। তাই তাঁদের যে কোনো একটি কার্ড সরকারকে সেরেন্ডার করতে হবে বলে নির্দেশিকা এসেছে। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পুরসভা ও ব্লক অফিসে গিয়ে তা ফেরানোর কথা। সেইমতো সরকারি কর্মীরা মহকুমার বিভিন্ন বিডিও অফিসে গিয়ে তাঁদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ফেরাচ্ছেন। এর জন্য গত কয়েকদিন ধরে ভিড় জমছে অফিসগুলিতে। 

Advertisement

আরামবাগ পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের ৮১ জন স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড সেরেন্ডার করেছেন। সেই সব কর্মী তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের অধীনে রয়েছেন। যে এলাকা থেকে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডটি মিলেছে, সেখানকার সরকারি দপ্তরে গিয়ে কার্ড ফেরানোর নিয়ম রয়েছে। ফলে সরকারি কর্মীরা অনেকেই আসছেন কার্ড ফেরাতে। তাঁরা কার্ড ফেরানোর আবেদন করছেন। পাশাপাশি আমরাও একটি রিসিভ কপি তাঁদের দিচ্ছি। সেই কপি সরকারি কর্মীদের নিজেদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা করতে হবে। আগামী কয়েকদিনে আরামবাগ পুরসভায় স্বাস্থ্য বিমার কার্ড সেরেন্ডারের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ৩১ অক্টোবরের পর আবেদনগুলি জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকেই কার্ড বাতিলের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে। 
গোঘাট-২ বিডিও কল্লোল সরকার বলেন, পুজোর আগে থেকেই সরকারি কর্মীরা তাঁদের কাছে থাকা অতিরিক্ত বিমার কার্ড ফেরাচ্ছেন। পুজোর পর সেই সংখ্যা বেড়েছে। এদিনও অনেকেই অফিসে এসে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড সেরেন্ডার করেছেন। 
পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, বিনামূল্যে সরকার স্বাস্থ্য বিমার ব্যবস্থা করেছে। বাসিন্দারা আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাচ্ছেন। সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রেও নিজস্ব হেলথ স্কিম রয়েছে। বিগত সরকারের তুলনায় আমাদের সরকার সেই খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা করেছে। তাই যাঁদের স্বাস্থ্য সাথী বা আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড রয়েছে, তা তাঁদের ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে। এরফলে এক ব্যক্তি একাধিক কার্ডের সুবিধা পাবেন না। একইসঙ্গে অন্য উপভোক্তা যাঁর প্রয়োজন রয়েছে, এমন ব্যক্তি সরকারি স্বাস্থ্য বিমার আওতায় আসবেন। এর ফলে সরকারের বাজেট করতেও সুবিধা হবে। সেই জন্যই এখন সরকারি কর্মীরা তাঁদের অতিরিক্ত বিমার কার্ড ফেরাচ্ছেন।