Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভাবাদিঘিতে ঢুকল মালগাড়ি, তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপ্রকল্পের কাজ জোরকদমে

অবশেষে ভাবাদিঘিতে ঢুকল মালগাড়ি। পাথর বোঝাই করা মালগাড়ি মঙ্গলবার গভীর রাতে ভাবাদিঘি এলাকায় প্রবেশ করে। তারপর নারকেল ফাটিয়ে, ধূপ জ্বেলে শুরু হয় কাজ।

ভাবাদিঘিতে ঢুকল মালগাড়ি, তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপ্রকল্পের কাজ জোরকদমে
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: অবশেষে ভাবাদিঘিতে ঢুকল মালগাড়ি। পাথর বোঝাই করা মালগাড়ি মঙ্গলবার গভীর রাতে ভাবাদিঘি এলাকায় প্রবেশ করে। তারপর নারকেল ফাটিয়ে, ধূপ জ্বেলে শুরু হয় কাজ। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে রেললাইনে পাথর পড়ায় আশায় বুক বাঁধছেন বাঁকুড়া ও হুগলির বাসিন্দারা। রেলের আধিকারিকদের দাবি, তারকেশ্বর বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্পের কাজ জোর কদমে চলছে। ভাবাদিঘিতে জট কেটেছে। এবার যত দ্রুত সম্ভব গোঘাটের সঙ্গে কামারপুকুরের সংযুক্তি হবে। 

Advertisement

এই প্রজেক্টের দায়িত্ব প্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার ইন্দ্রজিৎ হাজারি বলেন, ভাবাদিঘি সংলগ্ন অংশে রেল লাইন পাতার কাজ শেষ হয়েছে। সেখানেই পাথর দেওয়া শুরু হল। আরও কয়েকটি মালগাড়ির রেক পাথর নিয়ে আসবে। ভাবাদিঘিতে সেতু তৈরি করে বাকি অংশ যুক্ত করার কাজ দ্রুত করতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এদিন পুলিশ ও বাসিন্দাদের সহায়তায় পাথর ফেলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। 
ভাবাদিঘিতে জমি জটের কারণে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্পের কাজ থমকে ছিল। ভাবাদিঘির জলাশয় বাঁচিয়ে রেল পথ নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনে নামে এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। তারপরই থমকে যায় রেলের কাজ। তারকেশ্বর থেকে গোঘাট পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করলেও বাকি অংশ জমি জটে আটকেছিল। মাস খানেক আগে কামারপুকুর রেল চাই পক্ষের তরফে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা এক মামলায় আদালত কাজ শুরুর নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে রেলের তরফে জানানো হয় ভাবাদিঘিতে সংশ্লিষ্ট জলাশয়ের উপর সেতু তৈরি করা হবে। আদালতের নির্দেশ মতো কাজ শুরু করে রেল। ভাবাদিঘি সংলগ্ন অংশে মাটি ফেলে রেলের ট্র্যাক তৈরি করা হয়। তারসঙ্গে সেতুর জন্য মাটি পরীক্ষার কাজও পূর্ব রেল করছে। তারইমধ্যে মঙ্গলবার গভীর রাতে পাথরবোঝাই মালগাড়ি ঢোকে ভাবাদিঘিতে। তাতে খুশি পাশের এলাকার বাসিন্দারা। 
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারকেশ্বর বিষ্ণুপুর প্রস্তাবিত রেল প্রকল্পের সুবিধা থেকে দুই জেলার যাত্রীরা বঞ্চিত হয়েছেন। তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত এই প্রকল্প রূপায়ণে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। অবশেষে ভাবাদিঘি গ্রামে নির্মিত নতুন রেল ট্র্যাকে পাথর পড়ায় এলাকার রূপ কার্যত বদলে গিয়েছে। প্রত্যেকেই চাইছেন, দ্রুত শেষ হোক এই রেল পথের কাজ। 
তারকেশ্বর- বিষ্ণুপুর এই রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮২ কিলোমিটার। গোঘাট থেকে কামারপুকুর,  জয়রামবাটি হয়ে বিষ্ণুপুর পর্যন্ত রেল সংযোগে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নতি হবে। একইসঙ্গে শৈব তীর্থ তারকেশ্বরের সঙ্গে মন্দির নগরী বিষ্ণুপুরের রেল যোগাযোগ হলে বাড়বে পর্যটন সম্ভাবনাও। ভাবাদিঘি বাঁচাও কমিটির সম্পাদক সুকুমার রায় বলেন, রেলের সেতু নির্মাণের কাজ ঢিমেতালে চলছে। আমাদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেগুলি পূরণের কোনও লক্ষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি না।  ভাবাদিঘিতে নির্মীয়মাণ রেল প্রকল্প। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ