ফিরদৌস হাসান, গুলমার্গ: মাঝপথে থেমে আছে কেবিন। নীচ থেকে লম্বা মই আটকানো হয়েছে তাতে। ভয়ে ভয়ে পা ফেলে নেমে আসছেন একজন। পিছনে ঝুলন্ত অবস্থায় অপেক্ষা করছেন আরও তিনজন। কোথাও আবার মই লাগানোর সুযোগ মেলেনি। সেক্ষেত্রে আরও ভয়ংকর পদ্ধতিতে কেবিনের বাইরে আসতে হচ্ছে পর্যটকদের। কেবিন থেকে ঝুলিয়ে দেওয়া দড়ি ধরে দুঃসাহসিকভাবে নেমে আসছেন তাঁরা। কোথাও আবার যে তারে কেবিন ঝুলছে, সেই তার বেয়েই টাওয়ারে পৌঁছাতে হচ্ছে। শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবে এমনই নানান দৃশ্যের সাক্ষী থাকল কাশ্মীরের গুলমার্গ। সৌজন্যে গন্ডোলা রাইডের যান্ত্রিক ত্রুটি।
কাশ্মীরে গন্ডোলা রাইড অত্যন্ত জনপ্রিয়। আদতে রোপওয়ে পরিষেবা। কিন্তু এর মূল আকর্ষণ উচ্চতা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৬৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। ফরাসি সংস্থা পোমাগালস্কি নির্মিত এবং জম্মু ও কাশ্মীর কেবল কার কর্পোরেশন পরিচালিত গুলমার্গ গন্ডোলা বিশ্বের দ্বিতীয় উচ্চতম ও দীর্ঘতম কেবল কার প্রকল্প হিসাবে পরিচিত। প্রতিদিন ভালোই ভিড় হয়। তবে এদিন যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে দীর্ঘক্ষণ পরিষেবা ব্যাহত ছিল। আটকে পড়েন প্রায় ৩০০ জন পর্যটক। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় পর্যটকদের মধ্যে। বিভ্রাটের কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় উদ্ধারকাজ। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে গুলমার্গের জনপ্রিয় গন্ডোলা কেবল কার পরিষেবার উভয় ধাপের কার্যক্রম (ফেজ ১ ও ২) সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় ৬৫টি কেবিন মাঝ আকাশে আটকে পড়ে। সাধারণত প্রতি কেবিনে ৬ জন পর্যটক চাপতে পারেন। সেই হিসাবে প্রায় ৩০০জন দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকেন ঝুলন্ত কেবিনে। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যায় সেনাবাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর উদ্ধারকারী দল। মাটি থেকে অনেক উঁচুতে ঝুলে থাকা কেবিনগুলি থেকে পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধার করেন তাঁরা। ব্যবহার করা হয় বিশেষ মই, দড়ি সহ নানা সরঞ্জাম। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ৭ ঘণ্টার ‘অপারেশন’ শেষে পর্যটকদের নিরাপদে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। বর্তমানে গন্ডোলা রাইডের মেরামতি চলছে।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণেই এই প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তবে সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনা প্রসঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা জানিয়েছেন, সমস্ত কেবিন অক্ষত রয়েছে। আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধার করতে প্রশিক্ষিত দল কাজ করছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহাও উদ্ধার অভিযানের উপর নজর রাখছেন। প্রসঙ্গত, এদিনের ঘটনা ২০১৭ সালের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার স্মৃতিও ফিরিয়ে এনেছে। সেবার প্রবল ঝড়ে একটি গাছ রোপওয়ের উপর ভেঙে পড়ে। তার জেরে একটি কেবিন ভেঙে যায়। দুর্ঘটনায় দিল্লির চার পর্যটক সহ মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল।