


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শনিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ আগুন লাগে কদম্বগাছির বামুনমোড়ার গোডাউনে। সোমবার সন্ধ্যায়ও নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি যে আগুন পুরোপুরি নিভে গিয়েছে। কারণ, তখনও কাজ করে চলেছে দমকলের আটটি ইঞ্জিন। বিভিন্ন ‘পকেটে’ ধিকি ধিকি জ্বলতে থাকা আগুন স্পষ্ট হচ্ছে রাত নামলেই। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলেও তাতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না বলে জানালেন কর্মরত দমকলকর্মীরা। এই আবহে মানুষের কৌতূহলেরও শেষ নেই! দিনভর অজস্র মানুষ টাকি রোডে দাঁড়িয়ে দূর থেকে ধ্বংসস্তূপ চাক্ষুষ করলেন। কেউ কেউ আবার ফোনের ক্যামেরায় বন্দি করলেন ধ্বংসস্তূপ। অভিযোগ, এই সুযোগে স্থানীয় কিছু অসাধু লোক রাতের অন্ধকারে গোডাউন চত্বরে ঢুকে আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া কোনও সামগ্রী থাকলে হাতানোর চেষ্টা করছে। তবে পুলিসের তৎপরতায় তা ঠেকানো গিয়েছে বলেই দাবি প্রশাসনের।
শনিবার রাতেই দমকলের ২০টি ইঞ্জিন একযোগে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেছিল। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বিভিন্ন ‘পকেটে’ আগুন থেকে যায়। সোমবার দিনভর এই ‘পকেট ফায়ার’ মোকাবিলাতে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেল দমকলকর্মীদের। বিশাল এলাকাজুড়ে টিনের ছাউনি ভেঙে পড়ে থাকায় আগুনের জায়গায় জল দিতেই সমস্যা হচ্ছে বলে জানালেন তাঁরা। দমকলের বক্তব্য, ক্রেন বা জেসিবি দিয়ে ওই টিনের শেড না সরানো পর্যন্ত এই আগুন সম্পূর্ণভাবে নেভানো মুশকিল। কিন্তু ওই জায়গায় জেসিবি বা ক্রেন এনে কাজ করানোটাও সমস্যা বলে মনে করছেন তাঁরা। সোমবারও কয়েকবার বিস্ফোরণের জোরালো শব্দ শোনা গিয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এদিকে, রবিবারের পর সোমবারও দেখা গেল, টাকি রোডের পাশে দাঁড়িয়ে ধ্বংসস্তূপের দিকে উঁকিঝুঁকি মারছেন অনেকে। রবিবার রাতে টাকি রোডে দাঁড়িয়ে আগুন নেভানোর কাজ দেখছিলেন দীপঙ্কর কাইতি, আলি হোসেনরা। তাঁরা বললেন, ‘আমাদের বাড়ি পাশের গ্রামে। ভিতরে তো এখন ঢুকতে দেবে না। তাই এখান থেকেই দেখছি। এত বড় অগ্নিকাণ্ড আমরা আগে কখনও দেখিনি।’ মাঝেমধ্যেই তাঁরা মোবাইল বার করে ছবি তুলছেন অকুস্থলের। স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল আলি বলেন, ‘আগুন কখন নিভবে, কেউ কিছু বলতে পারছে না। রাত হলেই তো শিখা দেখা যাচ্ছে।’ স্থানীয় পঞ্চায়েতের সদস্য নিজামুল কবীর বলেন, ‘ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের রিপোর্ট নেওয়া হচ্ছে। জেলাশাসকের দপ্তরে তা জমা দেওয়া হবে। গোডাউনের ক্ষেত্রে কোনও আইনি গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’