সম্পদের দেবী
  • ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অরুণ মুখোপাধ্যায়: দেবী দুর্গা বিজয়া দশমীর পর যখন কৈলাসে ফেরেন, সঙ্গে নিয়ে যান তাঁর পুত্র-কন্যাদের। কিন্তু এক সপ্তাহের  মধ্যেই মর্তে পুজো পেতে চলে আসেন দেবী লক্ষ্মী। তিনি সম্পদের দেবী। প্রাচীনকালে ধনসম্পদ এবং ধান্যশস্য ছিল সমার্থক শব্দ। কৃষিপ্রধান এই দেশে দেবী লক্ষ্মী হচ্ছেন সম্পদের দেবী, ধান্যের দেবী, মুদ্রার দেবী।

Advertisement

বিষ্ণুপুরাণ অনুসারে, মহর্ষি ভৃগু ও দক্ষকন্যা খ্যাতির সন্তান দেবী লক্ষ্মী। ভৃগুর কন্যা বলে দেবীকে ভার্গবীও বলা হয়। লক্ষ্মী শব্দটি প্রথম দেখা যায় ঋগ্বেদে। এর অর্থ সুন্দর। পবিত্র। দেবী সেখানে স্থিত হয়েছেন পদ্মের উপর। হিরণ্যবর্ণা ও সালংকারা এই দেবীকে যজুর্বেদে  বলা হয়েছে মাহি, ভূমিদেবী, ধাত্রী। যৌবনে দেবী লক্ষ্মী নারায়ণের প্রতি অনুরক্ত হয়েছিলেন। তাঁকে স্বামী রূপে পাওয়ার জন্য লক্ষ্মী কঠিন তপস্যা শুরু করেছিলেন। তিনি তপস্যা করছিলেন সমুদ্রের একেবারে তলদেশে। সে কঠিন তপস্যা। দিনের পর দিন যায়। অবশেষে নারায়ণ বিচলিত হয়ে ওঠেন। তিনি দেবরাজ ইন্দ্রকে পাঠালেন তপস্যার স্বচ্ছতা, গভীরতা, আধ্যাত্মিকতা, নিষ্ঠা বিচার করার জন্য। তাঁর হাতে তখন শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম। তিনি নিলেন নারায়ণের ছদ্মবেশ। ইন্দ্রদেবের এই ছলনা বুঝতে অসুবিধা হল না দেবী লক্ষ্মীর। ইন্দ্র যে নারায়ণের ছদ্মবেশ গ্রহণ করেছেন, তা বুঝতে পেরে দেবী রীতিমতো বিরক্ত হলেন। তখন তিনি ইন্দ্রকেই কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দিলেন। ছদ্মবেশী দেবরাজ ইন্দ্রের কাছে তিনি বিশ্বরূপ দেখতে চাইলেন। ইন্দ্র কি তা পারেন? পারলেন না। কিন্তু ইন্দ্রের এই পরাজয়ে কোনো গ্লানি নেই। শ্রীনারায়ণ প্রসন্ন চিত্তে দেবী লক্ষ্মীকে পত্নীরূপে গ্রহণ করলেন। সেই থেকে দেবী লক্ষ্মীর স্থান রয়ে গেছে নারায়ণের পাশে। কথাতেই আছে লক্ষ্মীনারায়ণ।
দেবী লক্ষ্মীর জন্ম সমুদ্র মন্থনে। ক্ষীর সমুদ্রে দেবতা ও অসুররা মিলে মন্দার পর্বতকে মন্থন দণ্ড এবং বাসুকি নাগকে মন্থন রজ্জু করে সমুদ্র মন্থন করেছিল। সেই মন্থনে অনেক সম্পদ উঠেছিল। দেবতারা অস্ত্রবিহীন অবস্থায় এসে অসুরদের সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করেছিল। সখ্য স্থাপিত হয়েছিল। তারা সবাই একত্র হয়ে সমুদ্র মন্থন করতে রাজি হয়েছিল। মন্দার পর্বতের তলায় পড়ে অনেক দেবতা ও অসুর বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় তারা আবার সুস্থ হয়ে উঠল। শ্রীকৃষ্ণ দেবতাসকলকে বাসুকির পুচ্ছের দিকে এবং দৈত্যদের সাপের সামনের দিকে নিযুক্ত করলেন। অমৃত লাভের আশায় শুরু হল মন্থনকার্য। ভগবান বললেন, সমুদ্র মন্থন হলে যে অমৃত উৎপন্ন হবে তা পান করলে দেবতারা ও অসুরেরা  উভয়েই বলবান হবে। তারপর ভগবান এমন কাজ করবেন যাতে দেবতাদ্বেষীগণ অমৃত না পেয়ে কেবল ক্লেশভাগী হবে।
মন্থন চলতে চলতে বাসুকির মুখ থেকে বিষ নির্গত হল। অসুরেরা সেই সাপের মুখের বিষ এবং আগুন দ্বারা নিজ সৌন্দর্য হারাতে শুরু করল এবং নিস্তেজ হয়ে পড়ল। দেবতা এবং অসুররা মহাদেবের শরণাপন্ন হলেন। বললেন, হে বেদস্বরূপ ভগবান। আপনি সর্বশক্তিমান। আপনার জ্যোতির্ময় স্বরূপ হল পরমব্রহ্ম। মহাদেব সেই হলাহল পান করে হলেন নীলকণ্ঠ। মন্থনে প্রথমে উঠে এল উচ্চৈস্রবা নামে একটি সাদা ঘোড়া। এল ঐরাবত। যার চারটি সাদা দাঁত আছে। এল কৌস্তুভ মণি। নারায়ণ সেই মণি বুকে ধারণ করলেন। একে একে এল অপ্সরা, কল্পবৃক্ষ, কামধেনু। তারপর ধীরে ধীরে উঠে এলেন এক নারী মূর্তি। অসাধারণ তাঁর রূপ। চারদিক আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। তিনি পদ্মফুলের উপর দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর দু’হাতে দু’টি পদ্মফুল। দেবীর নাম তখন পদ্মা। কেউ বলেন কমলা। লক্ষ্মীর মহিমাময় আবির্ভাবে সকলে মোহিত হল। স্বয়ং ইন্দ্র লক্ষ্মীদেবীকে বসার জন্য আসন দিলেন। সোনার কলসিতে জল ভর্তি করে অসংখ্য নদী স্বর্ণকুম্ভের মাধ্যমে দেবীকে জলের ঝরনা উপহার দিতে লাগলেন। অভিষেকের জন্য পৃথিবী তাঁর সমস্ত দ্রব্য দান করলেন। গন্ধর্বরা নৃত্য-গীত পরিবেশন করলেন।  ব্রাহ্মণরা শুরু করলেন বেদপাঠ। বিশ্বকর্মা দিলেন অলংকার। বরুণ দিলেন মালা। সরস্বতী দেবী লক্ষ্মীর গলায় পরিয়ে দিলেন মুক্তার মালা। ব্রাহ্মণদের মন্ত্রপাঠের পর লক্ষ্মীদেবী শ্রীনারায়ণকে গ্রহণ ও বরণ করলেন। জগৎপিতা শ্রীবিষ্ণু জগতের সমস্ত সম্পদের অধিষ্ঠাত্রী দেবী লক্ষ্মীকে নিজের বুকে স্থাপন করলেন। পুষ্পবৃষ্টি হতে লাগল।
বিষ্ণুপুরাণ শ্রীলক্ষ্মীকে কত নামে আপ্যায়ন করেছে। শ্রীলক্ষ্মী হলেন নিত্যা, সর্বগতা। শ্রীবিষ্ণু অর্থ, লক্ষ্মী হলেন বাণী।  বিষ্ণু বোধ, লক্ষ্মী বুদ্ধি। বিষ্ণু ধর্ম, লক্ষ্মী সৎক্রিয়া। বিষ্ণু স্রষ্টা, লক্ষ্মী সৃষ্টি। ভগবান সন্তোষ, লক্ষ্মী শাশ্বতী তুষ্টি। শ্রী ইচ্ছা, ভগবান কাম। ভগবান যজ্ঞ, লক্ষ্মী দক্ষিণা। শ্রী বা লক্ষ্মী দেবী হলেন শক্তি, কলা, জ্যোৎস্না, তৃষ্ণা, রতি।
লক্ষ্মী এবং অলক্ষ্মী দুই বোন। লক্ষ্মীকে বলা হয় শক্তির অংশ। কতরকম ভাবে যে লক্ষ্মীকে ডাকা হয়...। লক্ষ্মীকে আমরা পেয়েছি কখনো দ্বিভুজা, কখনো চতুর্ভুজা, কখনো অষ্টভুজা। তিনি হলেন মহালক্ষ্মী। তাঁর দু’টি রূপ। ভূদেবী ও শ্রীদেবী। একজন পরমা প্রকৃতি আর একজন অপরমা প্রকৃতি। লক্ষ্মীর একাধিক রূপ আছে। ধনলক্ষ্মী, ধান্যলক্ষ্মী, গজলক্ষ্মী, সন্তানলক্ষ্মী, বীর লক্ষ্মী, বিজয়লক্ষ্মী, অষ্টলক্ষ্মী। সমুদ্র মন্থনে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই তাঁকে বলা হয় আদিলক্ষ্মী। গজলক্ষ্মীর দু’দিকে দু’টি হাতি থাকে। সেই হাতি জলপূর্ণ কলসি তার শুঁড়ে জড়িয়ে ধীরে ধীরে জল ছেটায়। হাতিরা লক্ষ্মীকে স্নান করায়।
কোচবিহার রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত লক্ষ্মীপুজো মদনমোহন মন্দিরের কাঠামিয়া বাড়িতে হয়। দেবী প্রতিমার গায়ের রং রক্তলাল। চতুর্ভুজা দেবীর পাশে বাহন কিন্তু পেঁচা নয়। থাকে চারটি সাদা হাতি। শুঁড় তুলে দাঁড়িয়ে থাকে। শুঁড়ে মালা ঝোলে। মহালক্ষ্মী দেবীর দুই হাতে থাকে পদ্মফুল। অন্য দু’টি হাতে থাকে বরাভয় আশীর্বাদ। বংশ   পরম্পরায় রাজপ্রথাতে এভাবেই প্রতিমা তৈরি হয়। লক্ষ্মীপুজোয় পাঁঠা ও পায়রা বলির প্রচলন আছে। দেবী বলির রক্তে তুষ্ট হন। রক্তরঙা মহালক্ষ্মীর পাশে হলুদ রঙের ইন্দ্র দেবতার পুজোরও চল আছে। দেবরাজ ইন্দ্র হাতির পিঠে চেপে থাকেন। তাঁর হাতে থাকে বজ্র। ১৮৮৯ সালে মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ ভূপবাহাদুর মদনমোহন মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই সময় থেকেই কোচবিহারের বাসিন্দাদের মঙ্গল কামনায় এবং মহারাজাদের ধনসম্পদ লাভের আশায় এই মহালক্ষ্মীর পুজো শুরু হয়েছিল।
দেবীর বিভিন্ন রূপের সঙ্গে তার গায়ের রঙও পরিবর্তিত হয়। ভগবান বিষ্ণুর স্ত্রী লক্ষ্মীর গায়ের রং কৃষ্ণাভ। দেবী স্বর্ণ-হলুদ বর্ণ ধারণ করেন যখন তিনি ধনসম্পদের দেবী। আর যখন মাতৃত্বের প্রতীক তখন তাঁর গা থেকে বিচ্ছুরিত হয় গোলাপি আভা। দেবী লক্ষ্মী নারী শক্তিরই এক রূপ। দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির প্রতীক অসুরকে দমনকালে উগ্রচণ্ডীর রূপ ধারণ করেছিলেন। আর অসুরকে নিধনের পর পৃথিবীকে শান্তি, ঐশ্বর্য ও সম্পদে ভরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব ধীরে ধীরে লক্ষ্মীদেবী নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। তাই তিনি শস্য ও সম্পদের দেবী। সানন্দ চিত্তে আমরা তাঁর আরাধনা করি। দেবীর প্রণামমন্ত্র— ‘বিশ্বরূপস্ব ভার্য্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে/ সর্ব্বতঃ পাহি মাং দেবি মহালক্ষ্মি নমোহস্তু তে।’ হে পদ্মধারিণি, হে পদ্মবাসিনি, হে শুভপ্রদে, হে মহালক্ষ্মী, তুমি বিশ্বরূপের অর্থাৎ শ্রীবিষ্ণুর ভার্য্যা। তুমি আমাকে সকল দুঃখ থেকে রক্ষা কর। আমি তোমাকে প্রণাম করি। একটি পারিজাত ফুলের মালা দুর্বাসা মুনি ইন্দ্রকে দিয়েছিলেন। ইন্দ্র মালাটি ঐরাবতের মাথায় পরিয়ে দেন। ঐরাবত মালাটি ছিঁড়ে ফেলে। দুর্বাসা রেগে যান এবং তিনি অভিশাপ দেন যে স্বর্গ লক্ষ্মীহীন হবে। নারায়ণের অনুমতি নিয়ে লক্ষ্মী স্বর্গ থেকে চলে যান এবং সমুদ্রকন্যা হয়ে জন্ম নেন। এরপর সেই সমুদ্র মন্থনের কাহিনি। ধীরে ধীরে পদ্মহস্তে দেবী লক্ষ্মী সমুদ্র থেকে উঠে আসেন। লক্ষ্মীকে পাওয়ার জন্য সুরাসুরের মধ্যে বিবাদ দেখা দিলে শ্রীবিষ্ণু মায়া বিস্তার করে লক্ষ্মীকে গ্রহণ করেন। লক্ষ্মীহীন স্বর্গ লক্ষ্মীময় হয়ে ওঠে। ইন্দ্রের লক্ষ্মীস্তুতিতে লক্ষ্মী তুষ্ট হন। দেবরাজ ইন্দ্র বলছেন, তুমি সিদ্ধি, তুমি সুধা, তুমি স্বাহা, তুমি স্বধা। তুমিই সন্ধ্যা, রাত্রি, প্রভা, ভূতি, মেধা শ্রদ্ধা, সরস্বতী। তুমিই যজ্ঞবিদ্যা, মহাবিদ্যা, গুহ্যবিদ্যা, বিমুক্তি-ফলদায়িনী আত্মবিদ্যা।
যে বেদিতে দুর্গাপুজো হয় সেই বেদিতেই সাতদিন পরে কোজাগরী পূর্ণিমায় লক্ষ্মীপুজো হয়। মুদ্রা অথবা ধানের শীষের মাধ্যমে লক্ষ্মীর পুজো হয়। বহু জায়গায় বহুরকম ভাবে লক্ষ্মীর পুজো হয়। কখনো ঘটে পুজো, কখনো বা কলাগাছের থোড় কেটে তাতেই দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়। কলাগাছে লাল কাপড় জড়িয়ে লক্ষ্মীপুজোর রীতি আছে বাংলাদেশে। এক গোছা ধানগাছকে লাল চেলি কাপড় পরিয়ে লক্ষ্মীজ্ঞানে পুজো করা হয়। সিঁদুর কৌটো এবং শাঁখা পলা এই পুজোর উপকরণ। লক্ষ্মীর সরা আজ অনেক বাড়িতেই দর্শনীয় উপকরণ হিসাবে থাকলেও লক্ষ্মীসরা অনেক বাড়িতেই পুজো হয়ে থাকে। বঙ্গদেশের মানুষ বিশ্বাস করেন কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী ঘুরে ঘুরে দেখেন কে অত্যন্ত আকুল হয়ে তাঁর জন্য রাত জাগছে। তাঁর নামে ধূপ-দীপ জ্বালছে? কুটিরে আলপনা দিয়ে সাজিয়ে রেখে দেবীর আবাহন গান গাইছে—‘এসো মা লক্ষ্মী বসো ঘরে, আমারই ঘরে থাকো আলো করে।’ কোজাগরী রাত জেগে অপেক্ষায় থাকে ভক্তের দল। 
কো জাগর্তি এই কথাটি থেকেই কোজাগরী শব্দের উৎপত্তি। পটচিত্রে লক্ষ্মীপুজোর অপূর্ব সম্বন্ধ আছে কোজাগরীর সঙ্গে। কার্তিক মাসের দীপাবলির অমাবস্যার রাত হল কালীপুজোর রাত। সেদিনও দেবী লক্ষ্মীর আবাহন করা হয়। আর কলহপ্রবণা অলক্ষ্মীকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। ভয়ানক অন্ধকার থেকে দেবী লক্ষ্মী ক্রমশ মানুষকে আলোর পথ দেখান।
সম্পদের দেবী লক্ষ্মীর বাহন হল পেঁচা। ধানের শত্রু ইঁদুরকে সংহার করে ধান রক্ষায় সাহায্য করতে পারে একমাত্র পেঁচা। তাই লক্ষ্মী তাঁর বাহন হিসাবে পেঁচাকে গ্রহণ করেছেন।
লক্ষ্মীর ধ্যানমন্ত্র হল—‘পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ শৃণিভির্যাম্যসৌম্যয়োঃ/পদ্মাসনস্থাং ধ্যায়েচ্চ শ্রিয়ং ত্রৈলোক্যমাতরং।/ গৌরবর্ণাং সুরূপাঞ্চ সর্ব্বালঙ্কারভূষিতাং/রৌক্মপদ্ম-ব্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেন তু।।’ লক্ষ্মীর দক্ষিণ ভাগে পাশ অস্ত্র ও জপমালা। বাম ভাগে পদ্ম ও অঙ্কুশ। তিনি পদ্মাসনে উপবিষ্টা। তিনি ত্রিভুবনের মাতা। গৌরবর্ণা, সুরূপা ও সকল অলংকারে ভূষিতা। তাঁর বাম হাতে রয়েছে স্বর্ণপদ্ম এবং তিনি ডান হাতে বর দান করছেন।      
দেবী লক্ষ্মীর প্রার্থনামন্ত্র— ‘নমামি সর্ব্বভূতানাং  বরদাসি হরিপ্রিয়ে।/ যা গতিস্ত্বৎপ্রপন্নানাং সা মে ভূয়াৎ ত্বদর্চ্চনাৎ।।’ হে হরিপ্রিয়ে, তুমি সকল প্রাণীকে বর প্রদান করে থাকো, তোমাকে আমি প্রণাম করি। যারা তোমার শরণাগত হয়, তাদের যে গতি, তোমার পুজোর ফলে আমার যেন সেই গতি হয়। আচমন করে এবার পুজোয় বসা যাক।