Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

গল্পের প্লট রবীন্দ্রনাথের

গল্পের প্লট রবীন্দ্রনাথের
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
কবি হতে চেয়েছিলেন বনফুল। কিন্তু তাঁকে উপন্যাস লেখার পরামর্শ দেন রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং। শুধু কি তাই, তাঁকে দিয়েছিলেন কাহিনির প্লটও। তবে রবীন্দ্রনাথের দেওয়া সেই প্লট দিয়ে কোনও গল্প বা উপন্যাস লেখা সম্ভব হয়নি বনফুল বা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের পক্ষে। তবে নিয়েছিলেন কবির দেওয়া গল্পের নায়ক চরিত্রকে। ‘নির্মোহ’ উপন্যাসে সেই ‘অমর’ চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। বলাইচাঁদের ‘বনফুল’ হয়ে ওঠার গল্পটিও কম আকর্ষণীয় নয়। খুব অল্প বয়স থেকেই সাহিত্যে হাত পাকিয়েছিলেন বনফুল। অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনার সময়ই তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয় ‘মালঞ্চ’ ও ‘বিকাশ’-এর মতো সাহিত্য পত্রিকায়। তখন তিনি বিহারের সাহেবগঞ্জ রেলওয়ে হাইস্কুলের পড়ুয়া। সহপাঠী থেকে শিক্ষক, সবাই তাঁর সাফল্যে খুশি হয়েছিলেন। তবে একজন মোটেই খুশি ছিলেন না। তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। যার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, সেই ছাত্র কবিতা লিখে ‘বখে’ যাবে! এমন আশঙ্কায় প্রধান শিক্ষক নির্দেশ দেন , কবিতা লেখা বন্ধ করতে হবে। একদিকে প্রধান শিক্ষকের আদেশ, অন্যদিকে সাহিত্যে অনুরাগ। দুই কূল রাখতে ছদ্ম নামের আশ্রয় নিলেন লেখক।  বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় হয়ে উঠলেন বনফুল। পরবর্তী সময়ে বলাইচাঁদ হয়েছিলেন স্বনামধন্য চিকিৎসক। সাহিত্য জীবন এবং চিকিৎসা পাশাপাশি চালিয়ে গিয়েছেন। চিকিৎসক জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘অগ্নীশ্বর’ নামে একটি উপন্যাস লিখেছিলেন তিনি। একবার তাঁর কাছে এসেছিলেন ভাগলপুরের ম্যাজিস্ট্রেট। তাঁর স্ত্রীর শরীর খারাপ। মূত্র পরীক্ষা করাতে হবে বলে, বনফুলের কাছে নিয়ে এসেছেন নমুনা। দেরি সয়নি। শুরু করে দিলেন হম্বি তম্বি। খবর যায় বনফুলের কাছে। ম্যাজিস্ট্রেটের চোখের সামনেই বোতল ভর্তি নমুনা এক টানে ফেলে দিলেন নর্দমায়। ৯ ফেব্রুয়ারি ছিল তাঁর মৃত্যু দিন।
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ