জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। ভবিষ্যতের জটিল প্রযুক্তি বা কোটি কোটি ডলারের গবেষণা না করে বিশ্ব উষ্ণায়ণ কীভাবে কিছুটা কমানো যায়, তা নিয়ে নতুন এক পথের সন্ধান দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের একদল বিজ্ঞানী। তাঁদের গবেষণা বলছে, বোয়িং ৭৭৭-এর মতো বড় কার্গো বিমান দিয়েই পৃথিবীর তাপমাত্রা কমানোর কাজটা করা যেতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন হবে বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টন সালফার ডাই অক্সাইড। এই গ্যাস বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া হলে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে কম পৌঁছবে। সেইসঙ্গে কমবে গড় তাপমাত্রাও। এই কৌশলটির নাম স্ট্র্যাটোস্ফেরিক এরোসোল ইনজেকশন। যা আসলে একটি জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে কৃত্রিমভাবে বায়ুমণ্ডলে কণা ছড়িয়ে সূর্যালোক প্রতিফলিত করা হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই পদ্ধতিতে গড় বিশ্ব তাপমাত্রা প্রায় ০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১.১ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত কমানো সম্ভব। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৯১ সালে ফিলিপিন্সের মাউন্ট পিনাটুবো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতেও ঠিক এরকম প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর তাপমাত্রা কিছুটা কমে গিয়েছিল। গবেষকদের মতে, বোয়িং ৭৭৭ এর মতো কার্গো বিমান দিয়ে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উচ্চতায় সালফার ছড়ানো সম্ভব, বিশেষ করে পৃথিবীর মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি জায়গাগুলিতে। তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। যেহেতু এই উচ্চতা তুলনামূলকভাবে নিচু, সেই কারণে সালফার কণাগুলি বেশিদিন বায়ুমণ্ডলে থাকবে না। ফলে প্রভাব টিকিয়ে রাখতে আগের পরিকল্পনার চেয়ে অন্তত তিনগুণ বেশি সালফার ব্যবহার করতে হবে। যার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে পরিবেশের উপর। দেখা দিতে পারে অ্যাসিড বৃষ্টি, মাটি-জলদূষণ। গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে কোনওভাবেই কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিকল্প নয়। বরং এটি একটি সাময়িক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা হতে পারে, যা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলির পাশাপাশি কাজে লাগানো যেতে পারে।



