সমীর সাহা, নবদ্বীপ: রেলমন্ত্রীর কাছে আমঘাটা-নবদ্বীপ ঘাট রুটে রেল সম্প্রসারণের দাবি জানালেন সাংসদ ও বিধায়ক। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আমঘাটা থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটারের বেশি রেলপথ সম্প্রসারণের বিষয়ে আশার আলো দেখছেন নবদ্বীপবাসী। এই রেললাইন চালুর দাবিতে গত প্রায় দু’বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ‘নবদ্বীপ ঘাট রেলস্টেশন বাঁচাও কমিটি’। দলমত নির্বিশেষে এলাকার মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন।
কমিটির পক্ষ থেকে একাধিকবার রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, সাংসদ জগন্নাথ সরকার সহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এই দাবির সমর্থনে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামীর কাছেও আবেদন জানানো হয়। পরে রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি আমঘাটা থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত পুরনো রেলপথ পরিদর্শন করেন।
শনিবার নবান্ন সভাঘরে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের উপস্থিতিতে রাজ্যের বিভিন্ন রেল উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বৈঠকের পর এই প্রসঙ্গে আশাবাদী মন্তব্য করেন বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী। তিনি জানান, ওই বৈঠকে সাংসদ জগন্নাথ সরকার রেলমন্ত্রীর কাছে আমঘাটা থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। পাশাপাশি তিনি নিজেও এলাকার মানুষের দাবি এবং নবদ্বীপ ঘাট রেলস্টেশন বাঁচাও কমিটির স্মারকলিপিসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র রেলমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন।বিধায়কের দাবি, রেলমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নোট করেছেন। তাঁর আশা, আগামী দিনে এই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, একসময় নবদ্বীপ ঘাট থেকে কৃষ্ণনগর হয়ে শান্তিপুর পর্যন্ত ন্যারোগেজ লাইনে ছোট ট্রেন চলাচল করত। ২০১০ সালের ১৮ জানুয়ারি সেই পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পূর্ব রেল এই রুটকে ব্রডগেজে রূপান্তরের কাজ শুরু করে। পরবর্তীকালে শান্তিপুর থেকে আমঘাটা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ সম্পূর্ণ হলেও বাকি অংশের কাজ নানা জটিলতায় থমকে থাকে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর আমঘাটা পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। তবে আমঘাটা থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটারের বেশি অংশে এখনও রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়নি।এই পরিস্থিতিতে পুরনো রুট ধরে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন জোরদার হয়েছে।
নবদ্বীপ ঘাট রেলস্টেশন বাঁচাও কমিটির সহসম্পাদক সঞ্জয় শর্মা বলেন, আমঘাটা থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত সামান্য এই অংশটুকু যুক্ত হলে যাতায়াত আরও সহজ হবে। পাশাপাশি নবদ্বীপ ও মায়াপুরের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিতে আন্দোলন করছি। সাংসদ জগন্নাথ সরকার এবং বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামীর কাছেও আবেদন জানিয়েছি। তাঁরা ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।