


আবু ধাবি: ভারত আগেই উঠে গিয়েছে সুপার ফোরে। অন্যদিকে, বিদায় নিয়েছে ওমান। শুক্রবার, গ্রুপ ‘এ’-র শেষ ম্যাচ ছিল নিতান্তই নিয়মরক্ষার। তবে রবিবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার আগে ভারতের পরিপ্রেক্ষিতে এটা ছিল ক্রিকেটারদের পরখ করে নেওয়ার মঞ্চ। সেই লক্ষ্যে প্রথমে ব্যাট করে আট উইকেটে ১৮৮ তুলল নীল জার্সিধারীরা। এবারের আসরে এটি যুগ্মভাবে সর্বাধিক রান। উদ্বোধনী ম্যাচে হংকংয়ের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানও ১৮৮ করেছিল। এদিন, ভারতের সঞ্জু স্যামসন ৪৫ বলে করলেন ৫৬। তিনিই একমাত্র ভারতীয় হিসেবে পঞ্চাশের গণ্ডি পেরলেন। ১৮৯ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২ ওভারে ওমানের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ১৭।
চলতি আসরে প্রথম দুই ম্যাচে রান তাড়া করে জিতেছিল সূর্যকুমার যাদবের দল। প্রথমে ব্যাট করে বড় রান তোলার সুযোগই আসেনি। ব্যাটসম্যানদের সবাইকে ক্রিজে আসার দরকারও পড়েনি। সঞ্জু স্যামসন, হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেলরা ব্যাটই করেননি। ওমানের বিরুদ্ধে সেজন্যই টস জিতে ব্যাট নিয়েছিল ভারত। ব্যাটিং অর্ডারেও আমূল বদল করা হয়। কিন্তু সেই সুযোগ সেভাবে কাজে লাগানো গেল না। দুর্বল ওমানের বিরুদ্ধে দুশো রানও উঠল না। শুভমান গিলের (৫) ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে বল গলে উইকেট ভাঙল। তিন ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৩৫। সুপার ফোরের আগে যা উদ্বেগে রাখছে কোচ গম্ভীরকে।
চার নম্বরে নামা হার্দিক (১) দুর্ভাগ্যবশত রান আউট হলেন। শিবম দুবেও (৫) ঝড় তুলতে ব্যর্থ। ওপেনিংয়ে অভিষেক শর্মা (১৫ বলে ৩৮) অবশ্য যথারীতি বিধ্বংসী মেজাজে চালালেন। তাঁর দাপটেই পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারে ওঠে ৬০ রান। আরও একবার বড় রানের সুযোগ নষ্ট হল তাঁর। গিলের অন্তর্ভুক্তিতে ওপেনিং স্লট হারানো সঞ্জু অবশ্য ভরসা জোগালেন। একসময় মনে হচ্ছিল প্রথম এগারোয় হয়তো জায়গা পাবেন না তিনি। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁর উপর আস্থা রেখেছে। তিন নম্বরে নেমে তার মর্যাদাই দিলেন স্যামসন। তবে রান পেলেও তিনি খেললেন ঢিমে তালে। ১২৪.৪৪ স্ট্রাইক রেটে তাঁর ইনিংসে রয়েছে তিনটি ছক্কা ও তিনটি চার। পাঁচে নামা অক্ষর অবশ্য ২০০ স্ট্রাইক রেটে ১৩ বলে করেন ২৬। সাতে ক্রিজে আসা তিলক ভার্মাও (১৮ বলে ২৯) চালালেন।
ভারত অধিনায়ক সূর্য অবশ্য ব্যাট করতে এলেনই না। সতীর্থদের সবাইকে ব্যাটিংয়ের সুযোগ দিতে নিজেকে ক্রমাগত পিছিয়ে গেলেন তিনি। আর একটা উইকেট পড়লেই অবশ্য নামতে হতো তাঁকে। তবে স্লগ ওভারে ঝড় ওঠেনি একেবারেই। ভারতের ইনিংসের শেষ তিন ওভারে ওঠে ২১ রান! ওমানের হয়ে বল হাতে দাগ কাটলেন ফয়জল শাহ (২-২৩), আমির কালিম (২-৩১) ও জিতেন (২-৩৩)। উল্লেখ্য, ভারত এই ম্যাচে দু’টি পরিবর্তন করে। বিশ্রাম দেওয়া হয় যশপ্রীত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্তীকে।