


নয়াদিল্লি: ক’দিন আগে কলম্বোয় ভারত-পাক ম্যাচ ঘিরে দুই শিবিরেই জারি হয়েছিল অঘোষিত কার্ফু। সৌজন্যমূলক করমর্দন দেখা যায়নি। তবে এই ঘটনা প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলেনি। সুনীল গাভাসকর, কপিল দেবদের কাছে ক্রিকেট মাঠে রাজনীতি হয়তো না-পসন্দ। তাই তো তাঁদের হৃদয় কাঁদে ইমরান খানের জন্য।
বিরানব্বইয়ে পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক, পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে জেলবন্দি। পাক সরকারের নির্যাতনের শিকার তিনি। জেলে থাকতে থাকতে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছেন ‘কাপ্তান’। খবর শোনার পরেই হৃদয় রক্তাক্ত সানি, লয়েড, ইয়ান চ্যাপেল, বর্ডারদের। বিভেদ ভুলে পাঁচ দেশের ১৪জন প্রাক্তন অধিনায়ক ইমরানের পাশে দাঁড়ালেন। ইম্মির সঠিক চিকিৎসা সহ একাধিক দাবিতে পাক সরকারকে তাঁরা চিঠি লিখেছেন।
সুনীল গাভাসকর, কপিল দেবদের সঙ্গে প্রতিবাদে শামিল গ্রেগ চ্যাপেল, মাইকেল আথারটন, অ্যালান বর্ডার, মাইক ব্রিয়ারলি, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, ডেভিড গাওয়ার, কিম হিউজ, নাসের হুসেন, ক্লাইভ লয়েড, স্টিভ ওয় ও জন রাইট। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ইমরানের বিরুদ্ধে খেলেছেন। কঠিন সময়ে প্রতিপক্ষ অধিনায়কের পাশে থাকতেই তাঁদের একজোট হওয়া। চিঠিতে সানিরা লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক, কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। পাকিস্তানকে ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। আমরা অনেকেই তাঁর সঙ্গে খেলেছি। প্রতিভা, দক্ষতা ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার মিশেলে ইমরান কমপ্লিট ক্রিকেটার। বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারদের তালিকায় উনি প্রথম সারিতেই থাকবে। ক্রিকেট ছাড়াও রাজনীতির ময়দানেও ছিল দারুণ জনপ্রিয়। সামলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব। কিন্তু ওঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। জেলে থাকাকালীন দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার খবরে আমরা ভীত। মনে করি, ওর মতো এক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি রেখে আচরণ করা হোক। আমরা পাক সরকারকে অনুরোধ করছি, দ্রুত ও যথোপযুক্ত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হোক ইমরানকে। ওর সঙ্গে নিয়মিত পরিবারকে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া উচিত। শারীরিক অবস্থার বুলেটিন জারি হোক নিয়মিত।’
এই চিঠি নিয়ে পাকিস্তান সরকার অবশ্য এখনও কিছু জানায়নি।