


লন্ডন: লিডসে সেঞ্চুরি দিয়ে সিরিজ শুরু করেছিলেন যশস্বী জয়সওয়াল। ওভালে সিরিজের শেষ ইনিংসেও পেলেন তিন অঙ্কের রান। ৪১.১০ গড়ে তাঁর ব্যাটে এল ৪১১। তাৎপর্যের হল, দুটো সেঞ্চুরি, দুটো হাফ-সেঞ্চুরির পাশাপাশি দু’বার শূন্য রানে আউটও হয়েছেন তিনি। আর এখানেই কিছুটা ফিকে হয়েছে তাঁর কৃতিত্ব। কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর অবশ্য তেমনটা মনে করছেন না। সানির মতে, ‘আসলে ওকে ঘিরে এতটাই প্রত্যাশা থাকে যে, চারশোর বেশি রানেও সন্তুষ্ট হওয়া যাচ্ছে না। নিজেকে এমনই উচ্চতায় তুলে নিয়ে গিয়েছে যশস্বী। এই ইনিংসটা দায়িত্ববোধের পরিচয় দিল। অফসাইডে স্কোয়ার অঞ্চলে বল পেলেই মেরেছে। খুচরো রান নিয়েছে। একটা দিক আগলে রেখে টেনেছে দলকে। মাথায় রাখতে হবে যে, পিচ মোটেই ব্যাটিংয়ের পক্ষে সহজ ছিল না। তবুও দুরন্ত দক্ষতায় সুযোগ পেলেই শট নিয়েছে ও। সেজন্যই কৃতিত্ব প্রাপ্য।’
টেস্ট কেরিয়ারে এটি যশস্বীর ষষ্ঠ শতরান। তার মধ্যে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেই এসেছে চারটি। সেদিক থেকে এদিন গাভাসকরকে স্পর্শ করলেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সানিরও রয়েছে চারটি শতরান। তবে তাঁর লেগেছিল ৩৭টি টেস্ট। সেখানে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দশম টেস্টেই চতুর্থ সেঞ্চুরি করে ফেললেন বাঁ-হাতি ওপেনার। উল্লেখ্য, রোহিত শর্মারও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আছে চারটি সেঞ্চুরি। শনিবার হিটম্যান ভিআইপি বক্সে বসেই সাক্ষী থাকলেন তাঁর একদা ওপেনিং পার্টনারের কীর্তির। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বাধিক পাঁচটি টেস্ট শতরান রয়েছে লোকেশ রাহুলের। তাঁকে দেখা গেল যশস্বীর শতরানের মুহূর্তে লাফিয়ে উঠে হাততালি দিতে।
লক্ষ্যণীয়, যশস্বীর মোট ছ’টা টেস্ট শতরানের মধ্যে চারটিই বিদেশে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোমিনিকায় একটি। অস্ট্রেলিয়ায় পারথে একটি। আর বাকি দু’টি চলতি সিরিজে। ২৩ বছর বয়সে আর মাত্র একজন ওপেনারই যশস্বীর চেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক ছিলেন। তিনি হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রেম স্মিথ। এই বয়সে ৫০ ইনিংসে তিনি করেছিলেন সাতটি শতরান। যশস্বীর সেখানে ছ’টি সেঞ্চুরি এসেছে ৪৬ ইনিংসে। ইংল্যান্ডের লেন হাটন ও অ্যালিস্টার কুক যথাক্রমে ২১ ও ৫৪ ইনিংসে পূর্ণ করেছিলেন পাঁচটি টেস্ট সেঞ্চুরি। এই বয়সে ভারতীয়দের মধ্যে বিদেশে সবচেয়ে বেশি টেস্ট শতরান রয়েছে শচীন তেন্ডুলকরের (৭)। তারপরই যশস্বী (৪) ও গাভাসকর (৪)।