


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাড়িতে একলা বাস করা মানুষ বা মফস্সল থেকে শহরে এসে পড়াশোনা করা ছাত্র-ছাত্রী, এই অংশের অন্যতম ভরসা ‘হোম ডেলিভারি’। কলকাতায় রান্না করে ডেলিভারি করে বহু ছোট সংস্থা। তারা পরিচিত ‘ক্লাউড কিচেন’ নামে। নিজেদের বাড়িতে রান্না করে সংস্থাগুলি সঠিক সময়ে খাবার পৌঁছে দেয় গ্রাহকদের। গ্যাসের আকালে তারা পড়েছে সমস্যায়। যে পদ বেশিক্ষণ ধরে রান্না করতে হয়, সেসব এখন বন্ধ করে দিয়েছে। কেউ সময় বেশি লাগলেও ইন্ডাকশন কুকারে রান্না শুরু করেছে। কেউ গ্যাস বুক করেও রয়েছে অনিশ্চতায় ডুবে। তারা ভাবছে, সঠিক সময় গ্যাস না পেলে বড়ো অর্ডার বাধ্য হয়ে বাতিল করতে হবে।
কালিকাপুরে এরকম একটি ক্লাউড কিচেন চালান শ্যামশ্রী চাকি। তিনি বললেন, ‘বাণিজ্যিক সিলিন্ডার একেবারেই পাচ্ছি না। কেটারিংয়ের কাজও করি আমরা। তাই এখন ছোটো আকারের অর্ডার নিচ্ছি। ২৫-৩০ জনের মতো রান্না ইন্ডাকশনে করে ফেলছি। কিন্তু অনেক বেশি সময় লাগছে।’ এর পাশাপাশি গ্যাসের সমস্যার কারণেই বহু কেটারিং সংস্থা অর্ডার নেওয়ার পর তা বাতিল করে দিচ্ছে। শ্যামশ্রী বললেন, ‘অনেকে ফোন করে বলছেন, অর্ডার বাতিল করে দিয়েছে। আপনি করে দিতে পারবেন? কিন্তু আমিই বা কীভাবে করব? ডোমেস্টিক সিলিন্ডারে কাজ করতে পারি না। সবমিলিয়ে সমস্যায় পড়েছি। কোভিডের সময় ঠিক একইরকম সমস্যায় পড়েছিলাম।’ যে ধরনের পদ বেশিক্ষণ ধরে কষিয়ে করতে হয়, সেসব পদ বাতিল করছেন অনেকে। যাদবপুরে নিজের বাড়িতেই ক্লাউড কিচেন চালান দীপমালা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বললেন, ‘আমার কাছে দু’টো সিলিন্ডার আছে। ইন্ডাকশন কুকারে কাজ করা শুরু করেছি। যাঁরা প্রতিদিন খাবার নেন, তাঁদের কম পদ দিতে পারব বলে জানিয়েও দিয়েছি। ভর্তা ধরনের রান্না করছি বেশি পরিমাণ। মোচা-থোড় ইত্যাদি কম। এখন তো আর পাশের বাড়ি গিয়ে গ্যাস নিয়ে আসতে পারব না। কারণ সকলেই সমস্যায় পড়েছেন। আমি গ্যাস বুক করেছি। কিন্তু যদি সময়ে না আসে তাহলে খুব বিপদে পড়ব। একটা বড়ো অর্ডার নেওয়া আছে।’
এর পাশাপাশি অনেকে বাড়িতে কেক তৈরি করে ডেলিভারির অর্ডার নেন। গড়িয়ার রূপা হালদার কেক তৈরি করেন। তিনি বললেন, ‘কেক তৈরির বেশিরভাগটাই ওভেন কিংবা মাইক্রোওয়েভে হয়। কিন্তু গ্যাসেরও প্রয়োজন হয়। ক্যারামেল সস, স্ট্রবেরি কম্পোট, চকোলেট মেল্ট করতে গ্যাসের আগুন লাগে। এখন ইন্ডাকশন ব্যবহার করব বলে ঠিক করলাম। কিন্তু সমস্যা হল, তাতে তো একটা মাত্র ওভেন। একসঙ্গে অনেক কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। খুবই সমস্যায় পড়তে হয়েছে আমাদের।’
শহরজুড়ে পড়ুয়াদের হস্টেল, বা পেইং গেস্টদের (পিজি) জীবনে গ্যাসের আকালের প্রভাব মারাত্মকভাবে পড়েছে। যাদবপুরে পিজিতে থাকা এক চাকুরিজীবীর বক্তব্য, ‘আমি নিজে রান্না করি। কিন্তু বাড়ির মালিক এখন বললেন, গ্যাস বেশি খরচ করা যাবে না। ফলে ঠিকমতো রান্না করতে পারছি না।’