Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে টোকেন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ, উদ্বেগে ভোর থেকে লাইনে গ্রাহকরা

বুকিং করেও ঘরোয়া গ্যাসের সিলিন্ডার মিলছে না। অথচ প্রশাসন পর্যাপ্ত গ্যাস থাকার কথা জানিয়েছে। বাস্তবে ঝাড়গ্রাম জেলায় চিত্র অন্যরকম। শহরের এক গ্যাস এজেন্সি  ডিলার অফিস থেকে টোকেন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করছে

ঝাড়গ্রামে টোকেন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ, উদ্বেগে ভোর থেকে লাইনে গ্রাহকরা
  • ১৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বুকিং করেও ঘরোয়া গ্যাসের সিলিন্ডার মিলছে না। অথচ প্রশাসন পর্যাপ্ত গ্যাস থাকার কথা জানিয়েছে। বাস্তবে ঝাড়গ্রাম জেলায় চিত্র অন্যরকম। শহরের এক গ্যাস এজেন্সি  ডিলার অফিস থেকে টোকেন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করছে। টোকেন না পেলে গ্যাস মিলছে না। শহরের বাসিন্দারা ভোর থেকে ডিলার অফিসের সামনে লাইন দিচ্ছেন। 

Advertisement

জেলাশাসক আকঙ্খা ভাস্কর বলেন, এই জেলায় ঘরোয়া এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক ও অবিচ্ছিন্ন রয়েছে। অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রশাসন নজরদারি চালাচ্ছে।
ঝাড়গ্রাম শহরে বাড়ি বাড়ি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ কার্যত বন্ধ।‌ গ্ৰাহকদের বড় অংশের  অভিযোগ, ফোন কল, হোয়াটস অ্যাপে বুকিং করা যাচ্ছে না। ভোর থেকে ডিলার অফিসের সামনে গ্ৰাহকরা লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন ডিলার অফিসে শনিবার ভোর ৫ টা থেকে গ্ৰাহকরা আসতে শুরু করেন । এজেন্সির তরফে এদিন ১০০ টি টোকেন দেওয়ার কথা বলা হয়। লাইনে দাঁড়ানো গ্ৰাহরকদের একাংশ যা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। জেলার অন্য এজেন্সির অফিসেও এদিন গ্যাস সিলিন্ডার না পেয়ে গ্ৰাহকরা ফিরে গিয়েছেন। শহরের হোটেল, ছোট খাবারের দোকানগুলিতে গ্যাসের টান পড়তে শুরু করেছে। শহরের নামি একটি খাবারের হোটেলের সামনেই ইটের উনুন করে শুকনো কাঠ জ্বালিয়ে  রান্নাবান্না হচ্ছে। বাজারে ইন্ডাকশন, ওভেনের বিক্রি বেড়েছে। শহরের গ্যাস এজেন্সিরগুলির অবশ্য বক্তব্য,কোম্পনি থেকে নিয়মিত গ্যাসের  গাড়ি আসছে না। বাধ্য হয়েই তাঁরা টোকেন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করছেন। শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রতিমা গাইত লাইনে দাঁড়িয়ে এদিন বলেন, প্রশাসনের তরফে একটি বুকিং হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। লাইনে দাঁড়িয়ে একটা গ্যাসের সিলিন্ডার নেওয়া ছাড়া বিকল্প উপায় নেই।  অপর গ্ৰাহক শম্ভুনাথ দাস বলেন, চারদিন আগে বুকিং করেছি। গ্যাসের সিলিন্ডার মেলেনি। এদিন ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। প্রথমে একশোটার বেশি টোকেন না দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।  উত্তেজনা তৈরি হয়, পরে অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।  শহরের এক হোটেল মালিক বলেন, গ্যাস যেটুক আছে তাতে কয়েকদিন চলবে। কমার্শিয়াল গ্যাস সরবরাহ বন্ধ। উনুন তৈরি করে কাঠে রান্নার ব্যবস্থা  হচ্ছে।
বিনপুর -২ ব্লকের শিলদা এলাকার বাসিন্দারা অনেকে গ্যাস এজেন্সি অফিস থেকে ঘুরে আসছেন। শহরের গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর সুরজিৎ হাঁসদা বলেন, প্রচুর ফোন আসায় সব ফোন ধরা যাচ্ছে না। বুকিং দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় সার্ভার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কোম্পানির গ্যাসের গাড়ি দেরি করে আসায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। 
 ঝাড়গ্রামে রান্নার গ্যাসের জন্য লম্বা লাইন। শনিবার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ