


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) সংকট। তাই বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন সরবরাহ বৃদ্ধির দাবি উঠল। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিল রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু লিখেছেন, রান্নার জন্য রেশনে কম দামে কেরোসিন সরবরাহের ব্যবস্থা আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের স্বার্থে রেশন মারফত কেরোসিন সরবরাহ ব্যবস্থা ফের চাঙা করা দরকার। এতে রান্নার জ্বালানি সংকট কিছুটা হলেও কমবে। পাশাপাশি রেশন ডিলারদের বিভিন্ন বকেয়া আর্থিক দাবিদাওয়া নিয়েও প্রধানমন্ত্রীকে ফের অবহিত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রেশনে কেরোসিন বণ্টনের ব্যবস্থাটি কার্যত তুলে দিতেই সক্রিয় কেন্দ্র। এজন্য রাজ্যগুলির বরাদ্দ কমনোর পাশাপাশি নিয়মিত দামও বাড়ানো হয়েছে। কয়েকবছর যাবৎ রেশনের কেরোসিনে ভরতুকিও বন্ধ। কেরোসিনের কোটা ছেড়ে দেওয়ার জন্য রাজ্যগুলিকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কোটা ছাড়তে দেওয়া হয়েছে রাজ্যগুলিকে কিছু আর্থিক অনুদানেরও প্রলোভন। সেইমতো অনেক রাজ্য কোটা ছেড়েও দিয়েছে। অন্যতম ব্যতিক্রম পশ্চিমবঙ্গ। আইনি লড়াই চালিয়ে কেরোসিন এখনো আদায় করছে এরাজ্য। তবে কেন্দ্র নিয়মিত দামবৃদ্ধির সঙ্গে বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে প্রচুর। আগে রাজ্যের জন্য বরাদ্দ ছিল মাসে ৫৮ হাজার কিলোলিটার। এখন কমিয়ে ১৯ হাজার কিলোলিটার করা হয়েছে।
আরব মুলুকের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়াতেই ভারতে রান্নার গ্যাসের সংকট। কিন্তু কেরোসিন আসে অশোধিত তেল থেকে। দেশের সব তৈল শোধনাগারে পেট্রল, ডিজেল এবং বিমানের জ্বালানির পাশাপাশি কেরোসিনও তৈরি হয়। বিমানের জ্বালানি ও কেরোসিনের চরিত্র প্রায় একই। চাহিদা জোরপূর্বক কমিয়ে কেরোসিনের উৎপাদন কমিয়ে রেখেছে কেন্দ্র। বিশেষজ্ঞদের মত, কেরোসিন উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সম্ভব। কারণ দেশে এখনো অনেকদিনের অশোধিত তেলের মজুত আছে। ওইসঙ্গে রাশিয়া থেকে আরো অশোধিত তেল আসছে। তাই কেন্দ্র চাইলেই রান্নার বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন দেওয়া সম্ভব।