


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাটনার হাসপাতালে গ্যাংস্টার চন্দন মিশ্রকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত বলবন্ত কুমার ভিজিটার সেজে পুরুলিয়া জেলে দেখা করেছিল শেরু ওরফে ওঙ্কার নাথ সিংয়ের সঙ্গে। চিকিৎসার জন্য প্যারোলে ছাড়া পেয়ে চন্দন হাসপাতালে ভর্তি হলেই তাঁকে খতম করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল শেরু। সেই সঙ্গে খালাসের নকশা বলে দিয়েছিল বলবন্তকে। অপারেশনের জন্য তৌসিফ রাজা ওরফে বাদশা সহ সকলকে বলবন্ত কুমার একজোট করেছিল শেরুর নির্দেশমতো। তদন্তে নেমে এই তথ্য হাতে এসেছে বিহার পুলিসের। মঙ্গলবার ভোরবেলা বিহার এসটিএফ ও স্থানীয় পুলিস জানতে পারে, বলবন্ত সহ ওই ঘটনার তিনজন শ্যুটার ভোজপুর জেলার বিহিয়া থানা এলাকায় রয়েছে। সেইমতো পুলিস টিম ভোর ৫.৪৫ নাগাদ বিহিয়া-কাটেয়া সড়কের কাছে একটি নদীর ধারে পৌঁছে তাদের ঘিরে ফেলে। এইসময় গুলি চালায় বলবন্ত ও রবিরঞ্জন সিং। পুলিসও পাল্টা গুলি চালালে এনকাউন্টারে আহত হয় বলবন্ত ও রবিরঞ্জন। গ্রেপ্তার করা হয় পাটনার হাসপাতালে অপারেশনে অংশ নেওয়া বলবন্ত কুমার. রবিরঞ্জন সিং ও তাদের সঙ্গী অভিষেক কুমারকে। অপরদিকে, পরিচয়পত্র ছাড়াই পাটনার গ্যাংস্টার তৌসিফ রাজা ওরফে বাদশা ও তার দলবলকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে আনন্দপুরের গেস্টহাউস মালিকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিস।
অপরদিকে আনন্দপুরের গেস্ট হাউস থেকে ধৃত তৌসিফ রাজা জেরায় পুলিসকে জানিয়েছে, বলবন্ত গোটা অপারেশন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিল। শেরুর সহযোগী বলবন্ত সকলকে আসতে বলে হাসপাতালের পিছনে। সেখানে জড়ো হওয়ার পর তাদের হাতে আর্মস তুলে দেওয়া হয়। অপারেশনের পর শ্যুটাররা আলাদা আলাদা পালিয়ে যায়। তৌসিফ তদন্তকারীদের জানিয়েছে, কলকাতায় আসার পর ১৮ তারিখ সকালে শেষ কথা হয়েছিল বলবন্তের সঙ্গে। সেখান থেকে বলবন্তের নতুন নম্বর পায় তারা। মোবাইলের সূত্রে অফিসাররা দেখেন, ভোজপুরের বিহিয়াতে রয়েছে বলবন্ত। সেইমতো বিহার পুলিসের যৌথ টিম ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ পৌঁছে যায় ওই এলাকায়। পুলিস তাদের ঘিরে ফেলেছে এই খবর বলবন্ত বোঝা মাত্রই সে ও তার সঙ্গী রবিরঞ্জন গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। যৌথ পুলিস টিম পাল্টা গুলি চালালে, পালানোর চেষ্টা করে তারা। পুলিসের গুলি বলবন্তের হাতে ও পায়ে লাগে। রবিরঞ্জনের উরুতে গুলি লাগে। তাদের ধরে ফেলে বিহার এসটিএফ। এনকাউন্টারের কথা স্বীকার করে ভোজপুরের এক পুলিস কর্তা জানান, দুজন জেলাসদর আরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বলবন্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, শেরু জেলে যাওয়ার পর পুরো গ্যাংয়ের দায়িত্ব তাকেই দেওয়া হয়েছিল। সেই কারণে মাঝেমধ্যেই ভিজিটর হিসেবে পুরুলিয়ায় গিয়ে দেখা করে আসত জেলবন্দি ‘বস’এর সঙ্গে। কোথায় অপারেশন চালানো হবে,তোলাবাজির টাকা কোথায় রাখা হবে এবং লুট হওয়া সোনার গয়না কোন ডেরায় রাখা হবে, তার প্রয়োজনীয় নির্দেশ নিয়ে আসত। চন্দনকে ঝাঁঝরা করে দেওয়ার আগে মাস খানেক আগেও দেখা করেছিল বলে বলবন্ত জেরায় অফিসারদের জানিয়েছে। তবে ঘটনার পর সে বিহারের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। পরিকল্পনা ছিল, তৌসিফ রাজা কলকাতায় পাকাপাকি ডেরা পেয়ে গেলে, সেখানে আশ্রয় নেওয়ার। তার আগেই তৌসিফ ধরা পড়ে যাওয়ায় সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।