নয়াদিল্লি: রক্ষকই ভক্ষক! পুলিশ সেজে গণধর্ষণ। তাও খাস রাজধানীতে। স্বরূপনগর, সদরবাজার, কিষানগঞ্জের পর কালকাজি— দিল্লিতে গত ১০ দিনে এটি নারী নির্যাতনের চতুর্থ ঘটনা। প্রতিবারই শিকার একজন নাবালিকা। সোমবার কালকাজিতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে পার্কের মধ্যে ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম আসিফ, হেমন্ত এবং মুকেশ। গ্রেপ্তারির সময় আসিফ পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলেও অভিযোগ। এনকাউন্টারে তার পায়ে গুলি লেগেছে।
জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা কিশোরী ফরিদাবাদের বাসিন্দা। সোমবার বন্ধুর সঙ্গে দিল্লি ঘুরতে এসেছিল। সন্ধ্যায় দু’জনে কালকাজি মন্দিরে পুজো দিতে যায়। তারপর কালকাজি মন্দির ও ইসকনের মাঝে থাকা আস্থা কুঞ্জ পার্কে ঢোকে। সেখানেই পুলিশকর্মী পরিচয় দিয়ে তাদের কাছে আসে আসিফরা। পুলিশের দাবি, এরপর আগ্নেয়াস্ত্র ও ছুরি দেখিয়ে তিনজনে তুলে নিয়ে যায় ওই কিশোরীকে এবং একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তাকে গণধর্ষণ করে। এমনকি নির্যাতিতাকে খুনের হুমকিও দেয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিটে একটি পিসিআর কলে ধর্ষণের খবর আসে। সঙ্গে সঙ্গে অমর কলোনি থানার ওসি ও পুলিশকর্মীরা আস্থা কুঞ্জ পার্কে পৌঁছান। এইমসে নিয়ে গিয়ে কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে অমর কলোনি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং পকসো আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় দায়ের হয়।
সোমবার রাত থেকেই একাধিক দল গঠন করে অভিযুক্তদের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। প্রথমেই আসিফের গতিবিধি পুলিশের স্ক্যানারে ধরা পড়ে। রাতেই ডিএম অফিস রোড এলাকায় পাতা হয় ফাঁদ। প্রাথমিকভাবে আসিফকে আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। আত্মসমর্পণের নির্দেশও দেওয়া হয়। জবাবে আসিফ প্রায় তিন রাউন্ড গুলি গুলি চালায় বলে পুলিশের দাবি। একটি গুলি হেড কনস্টেবল রাজেশের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটে লাগে। আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালায় পুলিশ। আসিফের ডান পায়ে গুলি লাগে। আহত অবস্থায় তাকে এইমস ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পরে দিল্লির শ্রীনিবাসপুরী এলাকায় বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই ভাই হেমন্ত ও মুকেশকে। হেমন্ত পেশায় আইনজীবী। মুকেশ বিএসসি গণিতের শেষ বর্ষের ছাত্র। গ্রেপ্তারির পর অবশ্য তাদের বাবা, আইনজীবী জে আর ধনকর আঙুল তুলেছেন পুলিশের দিকেই। ছেলেদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলেই তাঁর দাবি। রাজধানীর বুকে পরপর নাবালিকাদের ধর্ষণ-যৌন হেনস্তার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে দিল্লির প্রশাসন। অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন দিল্লি পুলিশের ব্যর্থতা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী দলের নেতারাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় কংগ্রেসের পোস্ট, ‘লজ্জাজনক ঘটনা! ডবল ইঞ্জিনে মহিলারা নিরাপদ নন।’