একদিন গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তমকুমারের ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে হাজির। গিয়ে দেখেন, মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে বসে রয়েছেন মহানায়ক। সুর করছেন একটি গানের। ‘কাল তুমি আলেয়া’ ছবির সেই গানের কথা লিখেছিলেন পুলক। ছবির সুরকার ছিলেন উত্তমকুমার। অপূর্ব সুর শুনে গীতিকার নাকি উত্তমকুমারকে প্রস্তাব দেন, ‘এক কাজ করো, গানটি তুমিই গাও।’ সঙ্গে সঙ্গে না করে দেন নায়ক। বলেন, ‘তুমি খেপেছ নাকি? এই গান করবেন হেমন্তদা (মুখোপাধ্যায়)। আমি কখনও গাইতে পারি?’ গান ছিল উত্তমকুমারের প্যাশন। সুযোগ পেলেই নিবিষ্ট মনে গান গাইতেন। রবীন্দ্রসঙ্গীত ভীষণ পছন্দ করতেন উত্তমকুমার। ‘মনে কী দ্বিধা রেখে গেলে’, ‘আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে’... এই দু’টি গান ছিল তাঁর প্রিয়। ছোটবেলায় গান শিখতেন উত্তমকুমার। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী নিদান বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তাঁর গুরু। শোনা যায়, ঘরোয়া আসরে বা বন্ধুমহলে প্রায়ই গান করতেন তিনি। বাজাতেন তবলাও। শৈশব থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্রের অনুরাগী। একবার ২৩ জানুয়ারি বন্ধুরা মিলে ঠিক করলেন নেতাজির জন্মদিন উপলক্ষ্যে প্রভাতফেরি বের করা হবে। উত্তমকুমার প্রস্তাব দিলেন, ‘আমি একটি গান লিখে সুর দেব।’ দু’দিনের মধ্যে কাজটি করলেন তিনি। লিখলেন, ‘সুভাষেরই জন্মদিনে গাইব নতুন গান/ সেই সুরেতে জাগবে মানুষ/ জাগবে নতুন প্রাণ...।’ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি বারবার সমর্থন ব্যক্ত করেছেন তিনি। লিখেছিলেন, ‘...দিল সে মিলাও দিল হিন্দু মুসলমান।’ সকলকে নিয়ে সেই গান বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে গাইতেন তিনি। এত বৃহৎ, এত বিস্তৃত এক তারকার জীবন ও সিনেমার গানে ছত্রে ছত্রে ছড়িয়ে রয়েছে এমন অনেক ঘটনা। তিনি স্বর্ণযুগের শ্রেষ্ঠ ধ্রুবতারা।



