নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: একদিকে পুরসভায় ডামাডোল চলছে। অন্যদিকে পরিকাঠামোর অভাব দেখা দিয়েছে। এই দু’কারণে হুগলির ডানকুনি পুরসভা এলাকার বাসিন্দারা পড়েছেন ব্যাপক সাফাই সংকটের মুখে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় হয়ে গিয়েছে ডানকুনির কোনো ওয়ার্ডে সাফাই কাজ ঠিকঠাক হয়নি। পাশাপাশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির সাফাই কাজ পুরোপুরি বন্ধ। এর ফলে বাসিন্দারা পড়েছেন তীব্র সমস্যায়। ঘরে ঘরে আবর্জনা জমছে। রেস্তরাঁ থেকে হোটেল, সর্বত্র জমছে আবর্জনা।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আবর্জনা ফেলা নিয়ে জটিলতার জেরে তৈরি হয়েছে সমস্যা। যদিও বিজেপির বক্তব্য, রাজ্যে পালাবদলের পর পুরকর্তারা কার্যত গা ঢাকা দেন। নাগরিক পরিষেবা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করেননি। তার জেরেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। ডানকুনি পুরসভার চেয়ারপার্সন হাসিনা শবনম অবশ্য বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব ডাম্পিং গ্রাউন্ড সুডার তত্ত্বাবধানে তৈরি হচ্ছে। সেটি এখনও কাজের উপযোগী হয়নি। অন্যত্র আবর্জনা ফেলতে স্থানীয়ভাবে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সে কারণে সাফাই কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে কথা চলছে। আমরা চলতি সপ্তাহ থেকে আবার ডোমজুড়ে আবর্জনা ফেলব।’ অন্যদিকে ডানকুনির বিজেপি নেতা দেবাশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের পুরকর্তারা গা ঢাকা দিয়েছিলেন। কাউন্সিলারদের একাংশ পদত্যাগ করেন। বর্ষার মুখে সঠিক পরিকল্পনার অভাব, নিজেদের পিঠ বাঁচানো ইত্যাদিকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য কর্তারা। সেই কারণেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। কখনও জমাজলের সমস্যা, কখনও সাফাই কাজ। তৃণমূলের পুরবোর্ডের অপদার্থতার কারণেই মানুষের ভোগান্তি শেষ হচ্ছে না।’
ডানকুনি পুরসভার বরাবরের সমস্যা হল জল জমা। এবার বর্ষা শুরুর মুখেই এই সমস্যা ভোগাতে শুরু করেছে। তার সঙ্গে পুরসভায় ডামাডোল চলার কারণেও তৈরি হয়েছে পরিষেবা সংকট। নিয়মিত সাফাই না হওয়ায় বিক্ষোভও হয়েছে। মঙ্গলবার এক কাউন্সিলার মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বাসিন্দাদের দাবি, সাফাই সমস্যা জটিল আকার নিয়েছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে ডোমজুড়ে আবর্জনা ফেলা হত। কিন্তু সেখানে বিক্ষোভের জেরে ডানকুনি হাউজিংয়ের কাছে একটি জায়গায় আবর্জনা মজুত করা শুরু হয়। কিন্তু সেখানেও সমস্যা তৈরি হয়। পাশাপাশি আবর্জনা পৃথকীকরণ ব্যবস্থা ত্রুটিযুক্ত হওয়ায় বৈদ্যবাটির কেন্দ্রীয় ডাম্পিং গ্রাউন্ডে আবর্জনা পাঠানো যাচ্ছে না। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া পুরসভার নিজস্ব ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজ এখনও অসমাপ্ত। সবমিলিয়ে জঞ্জাল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণে জট দেখা দিয়েছে। তার খেসারত দিতে হচ্ছে মানুষকে।