১ নভেম্বর থেকে মোবাইলে ভেসে উঠবে অচেনা কলারের নাম, ৪জি, ৫জি ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন নিয়ম কেন্দ্রের
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৩৪
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি, ১৫ অক্টোবর: অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলেই আর শুধু নম্বর দেখে পরিচয় বোঝার চেষ্টা করতে হবে না। মোবাইল ফোনে কলারের নাম ও নম্বর দেখানোর জন্য নতুন ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে কলিং নেম প্রেজেন্টেশন পরিষেবা (কোনো অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলেই আপনার ফোনের স্ক্রিনে তাঁর নাম ভেসে উঠবে) চালু করার নির্দেশ দিয়েছে টেলিযোগাযোগ দপ্তর। এই ব্যবস্থায় ৪জি এবং তার পরবর্তী প্রজন্মের নেটওয়ার্ক, অর্থাৎ ৫জি ব্যবহারকারীদের ফোনে ডিফল্টভাবেই পরিষেবাটি চালু থাকবে বলে জানা গিয়েছে। 

Advertisement

টেলিযোগাযোগ দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, ফোন এলে একসঙ্গে স্ক্রিনে দেখা যাবে কলারের নাম এবং নম্বর। নম্বরটি ফোনের কন্ট্যাক্টে সেভ করা থাকলে সেই নামই দেখা যাবে। আর নম্বরটি সেভ করা না থাকলে টেলিকম সংস্থার কাছে গ্রাহকের যে নাম আছে সেটি দেখানো হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কলের ক্ষেত্রে মোবাইল স্ক্রিনে আন্তর্জাতিক কল বলে লেখা ফুটে উঠবে। সম্পূর্ণ ডেটাবেস তৈরি করবে টেলিকম সংস্থাগুলি। এই পরিষেবা চালু করতে প্রতিটি টেলিকম সংস্থাকে গ্রাহকের নাম ও ফোন নম্বরের সংযোগ তথ্য নিয়ে ডেটাবেস তৈরি, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। কোনো ফোন এলে যে সংস্থার গ্রাহক ফোনটি ধরছেন, সেই সংস্থা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে গ্রাহকের মোবাইলে কলারের নাম দেখাবে। পাশাপাশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। 

পাশাপাশি যাঁরা কলার কলিং লাইন আইডেন্টিফিকেশন রেশট্রিকশন (নিজের আইডি গোপন রাখার সুবিধা)ব্যবহার করেন, তাঁদের নাম প্রদর্শন করা হবে না। অন্যদিকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গ্রাহকের নথিভুক্ত নামের পরিবর্তে পছন্দের নাম দেখানোর সুযোগ দিতে পারে টেলিকম সংস্থাগুলি। তবে সেই নামের পক্ষে নির্দিষ্ট নথি থাকতে হবে। নামটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের নামে ট্রেডমার্ক হতে হবে, অথবা জিএসটি পোর্টালে নথিভুক্ত ব্যবসায়িক নাম হতে হবে। টেলিকম সংস্থাগুলিকে নাম এবং তার সমর্থনে জমা দেওয়া নথি যাচাই করতে হবে। গ্রাহকদের পছন্দের নাম যুক্ত করতে হলে আবেদন করতে হবে। গত কয়েক মাসে ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে এই পরিষেবার পরীক্ষামূলকভাবে গ্রাহকদের ফোনে চালানো হয়েছে। সিএনএপি চালুর ক্ষেত্রে টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রাইয়ের ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির সুপারিশও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ট্রাইয়ের কেন্দ্রের প্রস্তাবের সঙ্গে সহমত করে জানায় পরিষেবাটি ডিফল্টভাবেই চালু রাখা যেতে পারে। যদিও ট্রাইয়ের আগের সুপারিশে ব্যবহারকারীর অনুরোধের ভিত্তিতে পরিষেবা চালুর কথা বলা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে এই ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হলেও ২জি, ৩জি এবং ল্যান্ডলাইন পরিষেবায় সিএনএপি চালুর বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে টেলিযোগাযোগ বিভাগ। নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে অচেনা নম্বর থেকে আসা ফোনের পরিচয় জানা আরও সহজ হবে বলে আশা রাখছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে কলারের পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফোনের কন্ট্যাক্টে সেভ করা নাম এবং টেলিকম সংস্থার নথিভুক্ত নামের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।