নয়াদিল্লি, ১৫ অক্টোবর: একদিকে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই, অন্যদিকে পেশাগত কাজের তাগিদ এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে অভিনেতা রাজপাল যাদবের জন্য কিছুটা স্বস্তির দরজা খুলল সুপ্রিম কোর্ট। চেক বাউন্স মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং তিন মাসের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে তাঁর আবেদনের শুনানিতে বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত বিরোধ মেটাতে মধ্যস্থতার পথ বেছে নিল। আদালতের রেজিস্ট্রিতে ২ কোটি টাকা জমা পড়ার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানায়, আলোচনার মাধ্যমে এই দীর্ঘদিনের আর্থিক বিবাদ মিটিয়ে ফেলা সম্ভব। পাশাপাশি, পেশাগত প্রয়োজনে বিদেশযাত্রার জন্য রাজপালকে তাঁর পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যদিও সে ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের নির্ধারিত শর্ত মানতে হবে।
বৃহস্পতিবার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, রাজপাল যাদব ও তাঁর স্ত্রী আদালতের রেজিস্ট্রিতে ২ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন। মামলার বিভিন্ন দিক এবং জমা দেওয়া অর্থের বিষয়টি মাথায় রেখে বেঞ্চ দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। পাশাপাশি, রাজপালের আইনজীবী আদালতে জানান, একটি শ্যুটিংয়ের কাজের জন্য অভিনেতাকে কানাডায় যেতে হবে। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিলে তাঁর কিছু অর্থ উপার্জনেরও সুযোগ রয়েছে। এর পরেই বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, রাজপালের পেশাগত কাজ চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে ট্রায়াল কোর্ট তাঁর পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেবে। তবে বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে নিম্ন আদালত যে শর্ত আরোপ করবে, তা মেনে চলতে হবে। সফর শেষে দেশে ফিরে রাজপালকে ট্রায়াল কোর্টকে বিষয়টি জানাতেও হবে।
রাজপাল যাদবের এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত ২০১০ সালে। অভিযোগ, নিজের পরিচালনায় প্রথম সিনেমা তৈরির জন্য তিনি এক সংস্থার কাছে ৫ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা নিয়েছিলেন। অভিযোগকারী সংস্থার দাবি, ২০১২ সালের একটি চুক্তিতে রাজপাল, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের সংস্থা সুদ-সহ প্রায় ১১ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। পরে ২০১৩ সালে আর্থিক দায় মেটানোর জন্য রাজপাল সাতটি চেক দেন, প্রতিটির অঙ্ক ছিল ১.০৫ কোটি টাকা। কিন্তু সেই চেকগুলি প্রত্যেকটি বাউন্স হয়ে যায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই অভিনেতা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে সাতটি চেক-ডিসঅনার মামলা দায়ের হয়। মামলাগুলিতে নিম্ন আদালত তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করে। পরবর্তী সময়ে একাধিক আদালতে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেন রাজপাল ও তাঁর স্ত্রী। গত ১০ জুলাই দিল্লি হাইকোর্ট রাজপালের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল রাখে এবং তাঁর তিন মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। এর আগে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিনেতাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল, যা পরে কমিয়ে তিন মাস করা হয়।



