Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ব্যান্ডে গান করার স্বপ্ন নিয়ে লেকটাউন থেকে দিল্লিতে, ৪ নাবালিকাকে উদ্ধার করল বিধাননগর কমিশনারেট

দক্ষিণ কোরিয়ার মিউজিক ব্যান্ড। তার ফ্যান ছিল নবম শ্রেণির চার সহপাঠী। চারজনেরই স্বপ্ন ছিল ওরকম ব্যান্ড খুলে গায়িকা হওয়ার। মিউজিক কনসার্ট করে কাটিয়ে দেবে বাকি জীবনটা।

ব্যান্ডে গান করার স্বপ্ন নিয়ে লেকটাউন থেকে দিল্লিতে, ৪ নাবালিকাকে উদ্ধার করল বিধাননগর কমিশনারেট
  • ৩ মে, ২০২৬ ০৬:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: দক্ষিণ কোরিয়ার মিউজিক ব্যান্ড। তার ফ্যান ছিল নবম শ্রেণির চার সহপাঠী। চারজনেরই স্বপ্ন ছিল ওরকম ব্যান্ড খুলে গায়িকা হওয়ার। মিউজিক কনসার্ট করে কাটিয়ে দেবে বাকি জীবনটা। সেই মতো গোপন পরিকল্পনা। টের পায়নি কাক-পক্ষীও। ‘স্কুল যাচ্ছি’ বলেই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ওই চার নাবালিকা ছাত্রী। কিন্তু, স্কুল ছুটির পর তারা কেউ বাড়িতে না ফেরায় দৌড়াদৌড়ি শুরু। থানা, পুলিশ, আত্মীয়বাড়ি। কোথাও মিলল না খোঁজ। একসঙ্গে চার-চারজন নাবালিকা উধাও! ডিজিটাল এভিডেন্স, সিসি ক্যামেরার ফুটেজের জেরে চারদিন পর অবশ্য মিলল খোঁজ। ততক্ষণে লেকটাউন থেকে তারা পৌঁছে গিয়েছে সুদূর দিল্লিতে! সেখান থেকে তাদের ফিরিয়ে এনেছে বিধাননগর কমিশনারেট।

Advertisement

কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই চার ছাত্রীর বাড়ি লেকটাউনেই। একই স্কুলে পড়াশোনা করে তারা। ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় এক ছাত্রীর মা হন্তদন্ত করে লেকটাউন থানায় যান। নিখোঁজের ডায়েরি করে বলেন—‘স্যার, আমার মেয়েকে খুঁজে দিন’। কী হয়েছে? পুলিশ জানতে পারে, শুধু তাঁর মেয়ে নন। আরও তিনজন সহপাঠীকেও পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ, সকাল বেলায় চারজনই স্কুল ড্রেসে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু, স্কুলের ছুটির সময় পেরিয়ে গেলেও কেউ বাড়িতে ফেরেনি। পুলিশ স্কুলে খোঁজ করে। জানতে পারে, তারা কেউ স্কুলে যায়নি। লেকটাউন থানা থেকে বিভিন্ন থানায় মেসেজ এলার্ট দেওয়া হয়। আশপাশের সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে খোঁজ শুরু হয়। ভোটের মধ্যেও বিধাননগর কমিশনারেটের পক্ষ থেকে এই ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তারা হাওড়া স্টেশন চলে গিয়েছে। তবে, সেখানে পাওয়া যায়নি। ২৫ এপ্রিল দিল্লি স্টেশনে জিআরপি তাদের আটক করে। সেই খবর পেয়েই রওনা দেয় কমিশনারেটের একটি টিম। তারপর উদ্ধার করে তাদের বিধাননগরে নিয়ে আসা হয়। জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। 
পুলিশকে তারা জানিয়েছে, এক বান্ধবীর বাড়িতে স্কুল ড্রেস বদল করে রওনা দিয়েছিল তারা। বাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা অনেকদিনের। তবে, দিল্লি পৌঁছানোর পর কী করবে, কোথায় থাকবে, কিছুই খুঁজে পাচ্ছিল না তারা! সেখানেই ছন্দ কাটে ব্যান্ডের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ