নয়াদিল্লি: বহুল ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত টায়ার, রানওয়ের দাগ ঝাপসা, অসতর্ক গ্রাউন্ড স্টাফ, পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে উড়ান, ট্যাক্সিওয়েতে বেহাল আলো...। ভারতীয় বিমান পরিষেবার এমন হাজারো খামতি উঠে এল ডিরেক্টর জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)-এর অডিটে। আমেদাবাদে বিমান বিপর্যয়ের পরে প্রকৃত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে তারা। অসমারিক বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থার যুগ্ম ডিরেক্টরদের নেতৃত্বে দু’টি টিম দিল্লি, মুম্বই সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলিতে হানা দেয়। তাতেই উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য। সংস্থার মতে, এধরনের নজরদারি জারি থাকবে। তাতে আগামী দিনে বিমান পরিষেবার অনিয়মকে চিহ্নিত করা যাবে। আর ডিজিসিএ’র রিপোর্ট সামনে আসতেই মোদি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে কংগ্রেস।
ডিজিসিএ জানিয়েছে, অডিটে বহু ভুলভ্রান্তি ধরা পড়েছে। কোথাও দেখা গিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের রানওয়ের দাগ ঝাপসা হয়ে গিয়েছে। নামজাদা একটি এয়ারপোর্টে বেহাল চাকা নিয়েই বিমান উড়তে যাচ্ছিল। শেষমুহূর্তে সেটিকে আটকে দেওয়া হয়। একাধিক বিমানবন্দরে ব্যাগেজ ট্রলির মতো বহু গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সামগ্রী কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য। বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ওয়ার্ক অর্ডার ঠিকমতো মানা হয় না। বেশ কিছু জায়গায় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়াররা সুরক্ষা বিধি পালন করছেন না। উড়ানে সমস্যা হলেও বিমানকর্মীরা তা লগবুকে তুলছেন না। এমন আরও বেশ কিছু সমস্যা ধরা পড়েছে। প্রতিটিই বড়সড় দুর্ঘটনা ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিমান পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা। ডিজিসিএ আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিমান পরিবহণ সংস্থাকে প্রতিটি সমস্যা নিয়ে অবগত করা হয়েছে। ত্রুটি-বিচ্যুতি শুধরে নিতে সাতদিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থার রিপোর্টকে হাতিয়ার করে মোদি সরকারকে কড়া আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। হাত শিবিরের বক্তব্য, বিগত পাঁচ বছরে ৫৬টি গুরুতর বিমান বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। তার পরেও সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিয়ে নীরবই থেকেছে মোদি সরকার। জীবনের থেকে আত্মপ্রচারকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন ছুড়েছে কংগ্রেস। তাদের প্রশ্ন, ‘মোদিজি আপনি কি মানুষের জীবনের থেকে আত্মপ্রচারকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন? যাত্রীদের সুরক্ষা কি আপনার সরকারের আর একটি জুমলা? সরকার কি আরও বিমান দুর্ঘটনার জন্য অপেক্ষা করছে? আর কত প্রাণ গেলে দায়িত্ব নেবে প্রশাসন?’ ডিজিসিএ’র এই রিপোর্ট মোদি সরকারের বিমান পরিষেবা সংক্রান্ত ব্যর্থতাকে বেআব্রু করে দিয়েছে বলেও সমালোচনায় সরব হয়েছে কংগ্রেস।