Bartaman Logo
৮ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কম্পাউন্ডার থেকে ভুয়ো চিকিৎসক, সাইদুলের দিনে আয় ছিল ৭০-৮০ হাজার

বর্ধমানে ভুয়ো চিকিৎসক সাইদুল হক গ্রেপ্তার, দিনে আয় ৭০-৮০ হাজার টাকা। শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তার প্রতারণার খবর প্রকাশ পায়। বিস্তারিত পড়ুন।

কম্পাউন্ডার থেকে ভুয়ো চিকিৎসক, সাইদুলের দিনে আয়  ছিল ৭০-৮০ হাজার
  • ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: এক সময় চিকিৎসকের কম্পাউন্ডার হিসাবে সাইদুল হকের দিনে আয় ছিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। কিন্তু, আচমকা ‘ডাক্তার’ হয়ে যাওয়ার পর তার আয় বেড়ে দাঁড়ায় দিনে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। ২০১৯ সাল থেকে বর্ধমানে তার রমরমা কারবার শুরু হয়। ২৬টি নার্সিংহোমে বিভিন্ন ধরনের অপারেশন করত। এছাড়া চেম্বারে রোগীও দেখত। বিভিন্ন জেলায় দালাল ছড়িয়ে রাখায় রোগী পেতে তার অসুবিধা হত না। কিন্তু, ফাইমোসিস অপারেশনের পর চার বছরের এক শিশু মৃত্যুতে তার স্বরূপ সামনে চলে আসে। ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন নিয়ে তার ডাক্তারি করার খবর ‘বর্তমান’ পত্রিকায় ফাঁস হওয়ার পর শোরগোল পড়ে যায়। তারপরই সে বর্ধমান থেকে হায়দরাবাদে গিয়ে আত্মগোপন করে। সেখান থেকে দুবাই চলে যায়। সেখানেই সে পাকাপাকিভাবে থাকার পরিকল্পনা করে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে সে দুবাই থেকে দিল্লি ফিরতে বাধ্য হয়। সেখানেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সে দেশে না ফিরলে প্রশাসন আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। কয়েক বছরে নামে বেনামে সে বিপুল সম্পত্তি তৈরি করে। গোলাপবাগে অভিজাত আবাসনে তার ফ্ল্যাট রয়েছে। সেখানে একটি স্টল কিনে রেখেছে। এছাড়া শহরে আরও তার তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। ওড়গ্রামে সম্প্রতি রিসর্ট কিনেছে। সে বিদেশে থেকে গেলে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যেত।  বুধবার তাকে বর্ধমান জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১২ তারিখ পর্যন্ত পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।  
এক চিকিৎসক বলেন, ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন তৈরির মাস্টারমাইন্ড সাইদুল। সে কয়েক মাস আগেও বর্ধমানের এক ওয়ার্ডবয়কে ডাক্তারি রেজিস্ট্রেশন জোগাড় করে দিয়েছে। টাকার বিনিময়ে সে সমস্ত ধরনের ডিগ্রি জোগাড় করে দিত। এক সময় তার হাত অনেক দূর পর্যন্ত ছিল। সেই কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখায়নি। তবে যাঁরা সত্যিই ডাক্তারি পাশ করেছেন, তাঁরা সাইদুলের ভুয়ো রেজিস্ট্রেশনের কথা জানতেন। বিভিন্ন কনফারেন্সে সে দুবাই, থাইল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশে যেত। সেখানে গিয়ে কেউ ডাক্তারি বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে পাশ কাটিয়ে চলে যেত। 
চিকিৎসকদের অনেকেই বলছেন, তার ভুল অপারেশনে আগে অনেকেই মারা গিয়েছে। কিন্তু, তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দালালরা তাকে ‘ভাল সার্জেন’ বলে প্রচার করে রোগী আনত। তার কাছে রোগী আনলে দালালরা ভাল টাকা কমিশন পেত। চার বছরের শিশুটির পরিবারের লোকজনদেরও এক দালাল তার কাছে নিয়ে আসে। ফাইমোসিসের মতো ছোটো অপারেশনে শিশু মৃত্যুর পরেও সে নিজের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, এ যাত্রায় সে আর রক্ষা পায়নি। পুলিশের জেরায় সে ভুয়ো রেজিস্ট্রেশনের কথা স্বীকার করে নিয়েছে। 
এই চক্রে তার সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অন্য দেশ বা ভিন রাজ্য থেকে ডাক্তারি পাশ করে এলেও তাঁকে একটা পরীক্ষা দিতে হয়। তারপর সেই পরীক্ষায় সফল হওয়ার নথি মেডিকেল কাউন্সিলে জমা করতে হয়। তা যাচাই করার পরই কাউন্সিল চিকিৎসা করার অনুমতি দেয়। কিন্তু, সাইদুলের ক্ষেত্রে কেন তেমনটা হয়নি, তা আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন। অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের সম্পাদক রাজীব পান্ডে বলেন, ভুয়ো চিকিৎসক চক্রের শিকড়ে পৌঁছানোর জন্য আমরা সিআইডি তদন্তের দাবি জানিয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ