


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দেশদ্রোহীতার অভিযোগে ধৃত সন্দেহভাজন পাক গুপ্তচর জ্যোতির সঙ্গে কাশ্মীর সফরে গিয়েছিলেন আসানসোলের এক ইউটিউবারও। এই ঘটনা সামনে আসায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে আসানসোলে। ওই ইউটিউবারের নাম সৌমিত ভট্টাচার্য। গত ডিসেম্বরে ধৃত জ্যোতি, ওড়িশার ইউটিউবার প্রিয়াঙ্কা সেনাপতির সঙ্গে কেই গাড়িতে কাশ্মীরের দুধপত্রি সফর করেছিলেন সৌমিত। তাঁর ব্লগে তিনজনকে যথেষ্ট আমোদ আহ্লাদ করতে দেখা যাচ্ছে। পাক গুপ্তচর সন্দেহে জ্যোতিকে গ্রেপ্তার করার খবরে রীতিমতো স্তম্ভিত সৌমিত। ঘটনার পরই জ্যোতির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি। জ্যোতি যে দেশদ্রোহী কাজ করতে পারে তা বিশ্বাসই করতে পারছেন না সৌমিত। প্রিয়াঙ্কা সম্পর্কে তিনি বলেন, উনি আমার ভালো বন্ধু। আমি মনে করি না প্রিয়াঙ্কা এমন কিছু করবে। সৌমিত ভট্টাচার্যর বাবা পার্থপ্রতিম ভট্টাচার্য ছিলেন আসানসোলের একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ। বাবার চাকরির সূত্রেই সৌমিত ও তাঁর বোন আসানসোলে এসেছিলেন থাকতে। আসানসোলের কল্যাণপুরে হাউসিং কমপ্লেক্সে থাকতেন তাঁরা। আসানসোল থেকেই সৌমিতের ইউটিউবার হয়ে ওঠা। পরে তাঁর বাবা উলুবেড়িয়ায় নতুন কাজে যোগ দেওয়ায় তাঁরা আসানসোল থেকে উলুবেড়িয়ায় চলে যান। সৌমিতের সঙ্গে জ্যোতির যোগাযোগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তাঁকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে আসানসোলজুড়ে। সৌমিতের একদা প্রতিবেশী প্রসেনজিৎ পুইতণ্ডি বলেন, ওঁরা পশুপ্রেমী ছিলেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে খুব বেশি মিশতেন না। সৌমিত কম্পিউটার নিয়েই ব্যস্ত থাকত। এখন কার মনে কী আছে বোঝা মুশকিল।
সৌমিতের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওতেই ধরা পড়েছে তাঁর সঙ্গে জ্যোতি ও প্রিয়াঙ্কার বন্ধুত্ব। কাশ্মীরের দুধপত্রিতে তাঁরা তিনজন একই গাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে ওড়িশার প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সৌমিতকে রসগোল্লা নিয়ে বাংলা-ওড়িশার টানাপোড়েন নিয়ে মসকরা করতেও দেখা যায়। তাঁরা একই হোটেলে ছিলেন। এমনকী বরফে খেলায় মাততে ও জ্যোতিকে নিয়ে প্রিয়াঙ্কার জন্মদিন পালন করতেও দেখা গিয়েছে তাঁর পোস্ট করা ভিডিওতে। শুধু কাশ্মীর ট্যুর নয়, কলকাতাতেও একাধিক বার জ্যোতির সঙ্গে সৌমিতের দেখা হয়েছে। জ্যোতিকে নামজাদা একটি বিরিয়ানি দোকানেও নিয়ে গিয়েছিলেন সৌমিত।
বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সৌমিত ভট্টাচার্য। বর্তমানে তিনি আন্দামানে ব্লগ শ্যুটে ব্যস্ত। সেখান থেকে ‘বর্তমান’-কে বলেন, আমি হতবাক। জ্যোতির আচরণ দেখে মনে হয়নি সে এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত। আমি মাত্র একদিনের জন্য ওঁদের সঙ্গে কাশ্মীরে ছিলাম। খবর জানার পরই ওর সঙ্গে যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছিলাম তা ছেড়ে বেরিয়ে এসেছি। আমি কোনও দিন পাকিস্তানে যাইনি।
সৌমিতের বাবা পার্থপ্রতিমবাবু বলেন, আমরা যাঁদের সঙ্গে মিশছি তাঁদের মনে কী আছে তা জানা সম্ভব নয়। আমি নিশ্চিত আমার ছেলে কোনও ফাঁদে পা দেবে না।