নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ল্যাগেজ ব্যাগে জামাকাপড়ের বদলে গাছ! তাও আবার তাজা। তাজ্জব ঘটনা ঘটল কলকাতা বিমানবন্দরে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই বিমানযাত্রীকে। থাইল্যান্ড থেকে আসা কোটি টাকা মূল্যের ওই গাছ কলকাতায় কার কাছে পাচার করা হচ্ছিল, তার তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসে বাড়তি সতর্কতা ছিল কলকাতাসহ দেশের প্রতিটি বিমানবন্দরে। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে যাত্রীদের যাতায়াত করতে হয়েছে। সুরক্ষা বলয়ের এই কড়া নজরদারিতেই হাতেনাতে ধরা পড়ে গেল দুই গাছ পাচারকারী। কলকাতা বিমানবন্দরের শুল্ক বিভাগের এয়ার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ধরে ফেলে উদ্ভিদ পাচারকারীদের।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, বি ৩-৭০১ বিমান ব্যাংকক থেকে কলকাতায় আসে। কিন্তু ওই বিমানের দুই যাত্রীর হাতে থাকা ব্যাগ এবং ল্যাগেজ ব্যাগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন বিমানবন্দরের শুল্ক বিভাগের আধিকারিকরা। তারপর ওই ব্যাগগুলি আলাদা জায়গায় নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করা হয়। আর তাতেই বড়ো ঘটনা সামনে আসে। ব্যাগ খুলতেই আধিকারিকরা চমকে যান। দেখা যায়, ব্যাগের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের তাজা গাছ থরে থরে সাজানো! রয়েছে গাছের বীজও। সব গাছ ও বীজ থাইল্যান্ডের। মোট উদ্ধার হয় ১৬০ কেজি গাছ ও বীজ। এরপর উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ এসে গাছগুলি পরীক্ষা করেন। তাতে দেখা যায়, গাছগুলি তাজাই রয়েছে। গাছগুলি সতেজ রাখার জন্য নানা ধরনের মোড়কের মধ্যে করে আনা হয়।
কিন্তু এই গাছ-বীজ বিমানে আনার জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ নথি দেখাতে পারেননি ওই দুই যাত্রী। তার ফলে সমস্ত গাছ ও বীজ বাজেয়াপ্ত করা হয়। নির্দিষ্ট শুল্ক আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়া প্লান্ট কোয়ারেন্টাইন অর্ডার ২০০৩ বলবৎ করা হয়েছে ধৃতদের বিরুদ্ধে।
গোটা ঘটনার পিছনে বড়োসড়ো পাচার চক্র থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অফিসাররা। তাই একজন যাত্রীর বাড়ি ও তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তল্লাশি চালায় শুল্ক বিভাগ। গাছ ও বীজ আনা এবং তা হস্তান্তরসম্পর্কিত কোনো নথি পাওয়া যায়নি সেখানে। এমনকি কোনো বৈধ বিলও পাওয়া যায়নি তল্লাশিতে। অফিসাররা মনে করছেন, বিদেশ থেকে ওই গাছ এনে দেশে বিক্রি করাই ছিল পাচারকারীদের মতলব। তদন্ত চলছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। শুল্ক বিভাগের অফিসাররা বলেছেন, এই গাছ ও বীজ অবৈধভাবে আনার ফলে নানা ক্ষতিকারক ঘটনাও ঘটতে পারে। বেআইনি পথে বিদেশ থেকে গাছ আনার ফলে রোগ-জীবাণু, কীটপতঙ্গ প্রভৃতি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বহুমূল্যের গাছের মতো এদিন সোনাও উদ্ধার হয়েছে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে। এগুলিও এসেছে ব্যাঙ্কক থেকে টিজি ৩১৩ ফ্লাইটে। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে তল্লাশিতে নামে বিমানবন্দর থানা। আর তাতেই উদ্ধার হয় ৯০০ গ্রাম সোনা। সবই ২৪ ক্যারেট। মোট বাজার দাম ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। ব্যাংকক থেকে আসা দুই যাত্রীর গতিবিধি ছিল সন্দেহজনক। তাদের এনএসসিবিআই থানায় ডেকে জেরা করা হয়। কাছে সোনা থাকার কথা তারা নিজেরাই স্বীকার করে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকেই।