নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাতসকালে স্ত্রীর গলা কেটে খুন। গত ২৩ জানুয়ারি ওই খুনের পর ডায়মন্ড পার্ক থেকে হাওড়াগামী বাসে চেপে চম্পট দেয় স্বামী। মোবাইল, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট না থাকায় প্রযুক্তিগত সাহায্য নেই। খবরের কাগজে ‘ওয়ান্টেড’ ফতোয়া জারি করে মিলল সাফল্য। প্রায় দু’মাস পর রবিবার রাতে হাওড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে গ্রেপ্তার ডায়মন্ড পার্ক খুন কাণ্ডে ফেরার কার্তিক দাস। এই দু’মাস সে ছিল কোথায়? কীভাবে পুলিসের চোখে ধূলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াল অভিযুক্ত?
কার্তিককে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে সিট। পুলিস সূত্রের খবর, খুনের পর হাওড়া স্টেশনে পৌঁছে যায় সে। লোকাল ট্রেন ধরে প্রথমে শেওড়াফুলি, পরে বর্ধমান। স্টেশনের বাইরের দোকান থেকে বানায় একটি পোস্টার। তাতে লেখা ‘হেল্প মি’। পাঁচ বছর ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছে কার্তিক। কমে আসছে দৃষ্টিশক্তি। টিটিই’র খপ্পর থেকে বাঁচতে এই কার্ডের সাহায্যে দুরপাল্লার ট্রেন ধরে খুনে অভিযুক্ত। পৌঁছয় বিহারের রাজধানী পাটনায়। সেখান থেকে মুম্বই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদের বিভিন্ন নামজাদা হাসপাতালে যায় চোখের চিকিৎসার জন্য। কিন্তু, পকেট শূন্য হওয়ায় কোনও হাসপাতালই তাঁর চিকিৎসা করতে রাজি হয়নি। দোলের পরই কলকাতা ফিরে আসার তোড়জোড় শুরু করে কার্তিক। ততক্ষণে রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে গিয়েছে কার্তিকের ছবিসহ ‘ওয়ান্টেড’ পোস্টার। শুধু তাই নয়, তার সন্ধান দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করে কলকাতা পুলিস।
রবিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ আচমকাই বেজে ওঠে হরিদেবপুর থানার ফোন। গোপন সোর্স জানায়, হাওড়া স্টেশনে খোঁজ মিলেছে কার্তিকের। ‘হেল্প মি’ পোস্টারটাই পুলিসের ওই সোর্সের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সিটের অফিসাররা। হাওড়া জিআরপির সহায়তায় অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়। স্ত্রী ছায়া সর্দারকে খুনে দু’মাস পর হাতকড়া জুটলেও বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নয় কার্তিক। থানায় পুলিসি জেরায় তার স্বীকারোক্তি, ‘যা করেছি, ঠিক করেছি’। সেখানে স্পষ্ট হয় নৃশংস খুনের নেপথ্যে কার্তিকের মোটিভ। পুলিসকে সে জানিয়েছে, প্রথমপক্ষের স্ত্রী ও সন্তানকে ছেড়ে ছায়ার সঙ্গে সংসার শুরু করে সে। কিন্তু, চোখে সমস্যার জন্য কার্তিককে বাড়ি থেকে বের করে দেয় ছায়া। স্থানীয়দের থেকে কার্তিক জানতে পারে, স্ত্রী ছায়া একসঙ্গে চারটি পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িত। তা জানতে পেরেই খুনের ছক তৈরি করে পিছুটানহীন স্বামী। একদিন বাড়িতে গিয়ে ছায়ার সঙ্গে দেখা করে সে। নতুন জায়গায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে সংসার পাতার টোপ দেয় অভিযুক্ত। সেইমতো ১৭ জানুয়ারি ডায়মন্ড পার্কে ‘এ’ ব্লকের এক প্রবীণ দম্পতির বাড়িতে একতলার বাড়ি ভাড়া নেয় যুগল। তারপরই সুযোগ বুঝে একাধিক পরকীয়া সম্পর্কে যুক্ত স্ত্রীকে খুন। সোমবার তাকে আদালতে পেশ করা হলে,
১১ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।