শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্সের (ডিআরআই) বড় কর্তা বলে। বড়বাজারের এক বাসিন্দাকে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে প্রভাব খাটিয়ে তিনি চাকরি পাইয়ে দিতে পারেন বলে টোপ দিয়েছিলেন। সেই টোপ গিলে আট লক্ষ টাকা খোয়ালেন বড়বাজারের ওই ব্যক্তি। তাঁকে যে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল, সেটি জাল ছিল। প্রতারিত ব্যক্তি বড়বাজার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তার ভিত্তিতে জালিয়াতি, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে থানা।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বড়বাজারের কটন স্ট্রিট এলাকার বাসিন্দা ওই যুবক অনেক দিন ধরেই চাকরির খোঁজ করছিলেন। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় ওই ব্যক্তির। নিজেকে বুম্বা বলে পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, ডিআরআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি রয়েছেন। এমনকী, ভুয়ো পরিচয়পত্রও দেখান। বলেন, তাঁকে বড়বাজার এলাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে কারা শুল্ক ফাঁকি দেন, সেই তথ্য জোগাড় করেন তিনি। খেলাপিদের নামের তালিকা দিল্লিতে পাঠিয়ে দেন তিনি। তার ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়।
একথা শুনে আশ্বস্ত হন বড়বাজারের ওই ব্যক্তি। এর মধ্যে দু’জনের আলাপ জমে ওঠে। কথা প্রসঙ্গে প্রতারক বলে, জেশপ বিল্ডিংয়ে নির্বাচন কমিশনের অফিসে করণিক পদে লোক নেওয়া হবে। নিয়োগের দায়িত্বে থাকা কর্তা তাঁর পরিচিত। ওই কর্তাই তাঁকে বলেছেন, কোনও প্রার্থী থাকলে জানাতে। পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ ছাড়াই চাকরি হয়ে যাবে। যুবক এই টোপ গেলার পর তাঁকে জেশপ বিল্ডিংয়ের সামনে নিয়ে আসা হয়। ডিআরআইয়ের অফিসার পরিচয় দেওয়া ওই প্রতারক জানান, তিনি অফিসের ভিতরে ঢুকতে পারবেন না। কারণ কিছু আইনি বাধ্যবাধ্যকতা রয়েছে। ডিআরআইয়ের কর্তা হিসেবে তিনি আলাদা একটি মিশনের দায়িত্বে থাকায় নির্বাচন কমিশনে কর্মরত ওই অফিসারের সঙ্গে সরাসরি দেখা করাতে পারবেন না। গত জুন মাসে দু’জনের মধ্যে কথাবার্তার পর বুম্বা জানিয়ে দেন, কাজের ধরন কী হবে। এরপর অভিযোগকারীকে বলা হয় আট লক্ষ টাকা দিতে। চাকরির আশায় ওই যুবক কয়েক ধাপে ওই টাকা দিয়ে দেন। তারপর তাঁকে দেওয়া হয় নিয়োগপত্র। চাকরিতে যোগ দিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন নিয়োগপত্রটি জাল। তখনই বুঝতে পারেন জালিয়াতের পাল্লায় পড়েছেন। ওই ব্যক্তি আদৌ ডিআরআইয়ের অফিসার নয়। তারপর বড়বাজার থানায় অভিযোগ করলে জালিয়াতি, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে। যে মোবাইল থেকে অভিযুক্ত কথা বলত, সেটি বন্ধ। এমনকী পাল্টে ফেলেছে ঠিকানাও। তার ছবি হাতে এসেছে তদন্তকারীদের। পাশাপাশি ওই জালিয়াত আর কাকে কাকে ফাঁদে ফেলেছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।