Bartaman Logo
২৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারুইপুর দলীয় কর্মী খুনে গ্রেপ্তার বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য সহ চার

বারুইপুরে দলীয় কর্মী খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেন বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য সুজন মণ্ডল সহ চারজন

বারুইপুর দলীয় কর্মী খুনে গ্রেপ্তার বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য সহ চার
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুরে দলীয় কর্মী খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেন বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য সুজন মণ্ডল সহ চারজন। ঘটনার পর দলের মধ্যেই শুরু হয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ি। সুজনের স্ত্রী সুপর্ণা মণ্ডলের দাবি, টাঙ্গারবেড়িয়া এলাকার বিজেপির নেত্রী মৌসুমী মণ্ডল এবং বিজেপির কর্মী বাদল মণ্ডল ফাঁসিয়েছে স্বামীকে। ঘটনার সময় সুজন বারুইপুরে নিরাপত্তারক্ষীর কাজে ছিল। যদিও মৌসুমীদেবী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সুজন কী করেছে এলাকার সবাই জানে। আর বাদলকে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। অভিযোগ, রবিবার রাতে খুনের আগে বাদল ফোন করে ডেকেছিল বাপিবাবুকে। তারপরই তাঁর উপর হামলা হয়। 

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, সুজন ছাড়া আরও যে তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁরা তৃণমূল কর্মী হিসাবে পরিচিত। এদিকে, খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছে মৃতের পরিবার। কারণ তাঁদের বক্তব্য, রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও পরে টাকার বিনিময়ে অভিযুক্তরা ছাড় পেয়ে যেতে পারে। তাই শুধু কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপরই ভরসা রয়েছে। তবে বাবার মৃত্যুর পর বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মৃতের দুই মেয়ে মন্দিরা সর্দার ও সোনালি প্রামাণিক। তাঁরা এদিন বলেন, এলাকার দুই তৃণমূল নেতা সমীর সর্দার ও সনাতন মণ্ডল বিজেপিতে ঢোকার জন্য বাবাকে ১০ লক্ষ টাকা টোপ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে মৌসুমীকেও এই টাকার অফার দেওয়া হয়েছিল। তিনি কী করেছিলেন জানি না। কিন্তু বাবা এই টাকা নিতে অস্বীকার করছিলেন। তার জন্য বাবাকে খুনের পরিকল্পনা করে ওরা। এতে পঞ্চায়েত সদস্য সুজন মদত দিয়েছিলেন। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, শুধু পুজো কমিটিকে নিয়ন্ত্রণ করবে তা নিয়ে শুধু গণ্ডগোল নয়। তৃণমূল কর্মী সনাতন মণ্ডলের ছেলে কনক মণ্ডলকে জোর করে বিজেপিতে ঢোকাতে চেয়েছিলেন সুজন। তা নিয়ে তীব্র বিরোধ বাধে বিজেপির কর্মীদের একটি অংশের মধ্যে। এই নিয়ে আপত্তি করেছিলেন বাপিও। খুনের পিছনে এইসব পুরানো বিবাদ আছে কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মঙ্গলবার হাড়দহ পঞ্চায়েতের টাঙ্গারবেড়িয়া এলাকা ছিল শুনশান। এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্বামীকে চোখের সামনে খুন হতে দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্ত্রী পুতল প্রামাণিক। বাড়ির একমাত্র রোজগেরের মৃত্যুর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে পরিবারের এক সদস্যকে চাকরি দেওয়ার আবেদন করেছেন মৃতের বাড়ির লোকজন। তবে  দলের কর্মী খুন হয়ে গেলেও এই দুঃসময়ে রাজ্য ও জেলা বিজেপির কেউ পরিবারের পাশে না থাকায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছে পরিবার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ