নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: তোলাবাজি থেকে ভোট পরবর্তী হিংসা— একাধিক অভিযোগে হাওড়ার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার তৃণমূলের শৈলেশ রাইকে উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করলেন হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা। একইসঙ্গে তোলাবাজি, হুমকি ও মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উত্তর হাওড়ার তৃণমূল নেতা সুজিত সিং ওরফে শ্যামকে। এই দুই গ্রেপ্তারকে ঘিরে হাওড়ার রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে গ্রামের বাড়ি থেকে শৈলেশকে গ্রেপ্তার করেন গোয়েন্দারা। পরে তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে হাওড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন তদন্তকারীরা। আজ, শুক্রবার তাঁকে হাওড়া জেলা আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তকারীদের দাবি, মঙ্গলাহাটে তোলাবাজি, ২০২১ সালে বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসা এবং চলতি বিধানসভা নির্বাচনের সময় ভোটারদের ভয় দেখানো ও বিরোধীদের উপর হামলার মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে শৈলেশের বিরুদ্ধে।
৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তিনি পলাতক। তবে শৈলেশের বিরুদ্ধে অভিযোগের পুরানো ইতিহাস রয়েছে। ২০১৬ সালে ফোরশোর রোডের ধারে নিরাপত্তারক্ষী বিজয় মল্লিককে খুনের ঘটনায় সুপারি দেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। প্রায় দু’বছর জেলে থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে ফের সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। মধ্য হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের ঘনিষ্ঠ হিসাবেও পরিচিত ছিলেন শৈলেশ।
অন্যদিকে, বুধবার রাতে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে সুজিত সিং ওরফে শ্যামকে। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তিনকড়ি নাথ বোস লেনের বাসিন্দা সুজিত সিং উত্তর হাওড়া যুব তৃণমূলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি ও মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এদিন আদালতে তোলার আগে কোর্ট লক-আপের সামনে বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখিয়ে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন। আদালত ধৃতকে চারদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসাবেই পরিচিত ছিলেন শ্যাম। বিধানসভা নির্বাচনের আগে একাধিক দলীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে গৌতম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। পরপর দুই নেতার গ্রেপ্তারি নিয়ে বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, তৃণমূল আমলে হাজারো অভিযোগ থাকলেও এই নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারত না পুলিশ। এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। শৈলেশ রাই