Bartaman Logo
১৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গ্রিন সিটি দুর্নীতি মামলায় কেরল থেকে ধৃত আরামবাগ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারপার্সন

গ্রিন সিটি দুর্নীতি মামলায় কেরল থেকে গ্রেপ্তার হল আরামবাগ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন নন্দী। তদন্ত চলছে, বিস্তারিত পড়ুন।

গ্রিন সিটি দুর্নীতি মামলায় কেরল থেকে ধৃত আরামবাগ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারপার্সন
  • ১৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: গ্রিন সিটি দুর্নীতি মামলায় আরামবাগ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্তমান কাউন্সিলার তৃণমূলের স্বপন নন্দীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে কেরলের তিরুবনন্তপুরম গ্রামীণ পুলিশের অধীন কাঞ্জিরমকুলাম থানা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রিন সিটি দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই প্রাক্তন চেয়ারম্যান পলাতক ছিলেন। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছিল। বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, তিনি কেরলে রয়েছেন। এরপরই পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ সেখানে রওনা দেয়। কেরল পুলিশের সাহায্যে আরামবাগ থানার বিশেষ দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে আরামবাগ নিয়ে আসা হচ্ছে। এই মামলায় গ্রেপ্তারির সংখ্যা বেড়ে হল চার। 
হুগলি গ্রামীণের পুলিশ সুপার কুনওয়ার ভূষণ সিং বলেন, প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, গ্রিন সিটি মিশনে আরামবাগ পুরসভার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের খরচ কমাতে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছিল। কিন্তু, সেই প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ে। অনভিজ্ঞ ঠিকাদার সংস্থাকে দিয়ে কাজ করিয়ে সরকারি টাকা নয়ছয় করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এব্যাপারে কিছু স্কুল কর্তৃপক্ষ আরামবাগ পুরসভায় অভিযোগ জানায়। তার ভিত্তিতে তদন্ত হয়। তৎকালীন সময়ে আরামবাগ পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন তৃণমূলের স্বপনবাবু। রাজ্যে পালাবদলের পর আরামবাগ পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান তৃণমূলের সমীর ভাণ্ডারি ওই প্রকল্প নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। স্বপনবাবু সহ সাতজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে সাড়ে সাত কোটি টাকা তছরুপের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে প্রথমেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তারমধ্যে রয়েছেন আরামবাগ পুরসভার বর্তমান বিদ্যুৎ বিভাগের সুপারভাইজার কৌস্তভ মুখোপাধ্যায়। এছাড়া প্রাক্তন সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মানস কুণ্ডু ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার কর্তা স্বর্ণাভ ঘোষকেও গ্রেপ্তার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় আরামবাগ থানার পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায়। সিট গঠন করা হয়। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসেছিল সেখানেও পুলিশ তদন্ত করে। তাছাড়া আরামবাগ পুরসভা কার্যালয়ে গিয়েও আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। মামলা দায়েরের পর থেকেই প্রাক্তন চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তারি নিয়ে চর্চা চলতে থাকে। কিন্তু, অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই স্বপনবাবু পলাতক ছিলেন। বন্ধ ছিল তাঁর ফোনও। তবে শেষ রক্ষা হল না। পুলিশ কেরল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। যদিও শেষ হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় স্বপনবাবু দাবি করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আরামবাগের বিজেপি বিধায়ক হেমন্ত বাগ বলেন, গ্রিন সিটি দুর্নীতির মাস্টার মাইন্ড স্বপন  নন্দী। প্রাক্তন চেয়ারম্যান সরকারি টাকা তছনছ করেছেন। তাঁকে আগেই গ্রেপ্তার করা উচিত ছিল। আইনের মাধ্যমে তাঁর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি।

Advertisement

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ