তাঁর মৃত্যুর পর কেটেছে ৬০ বছর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গিয়েছেন সতীশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষ এই সাঁতারু ছিলেন বরানগরের খেলার জগতের এক অন্যতম পথিকৃৎ। বরানগর স্পোর্টিং ক্লাব গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল অসীম। সতীশচন্দ্রের আন্তরিক চেষ্টায় বরানগর জুট ফ্যাক্টরির তৎকালীন ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ ও বরানগর পুরসভার সহায়তায় ওই ক্লাবের পাকা ঘর তৈরি হয়। এলাকায় খেলার জগতের এই পথিকৃৎ সতীশচন্দ্র ছিলেন একজন দক্ষ সাতারু। তিনি গঙ্গার স্রোত ও গতিপথ খুব ভাল বুঝতেন। গঙ্গাবক্ষে নৌকা বাইচ সংগঠন চালু ও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা তাঁর কর্মময় জীবনের এক অনন্য কীর্তি। ১৮৯৯ সালে চালু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় তখন অংশ নিতেন পেশাদার মাঝিমাল্লারা। সতীশচন্দ্রের সঙ্গে বালি ও উত্তরপাড়ার কিছু মানুষের আন্তরিক প্রচেষ্টায় একসময় শিক্ষিত যুবক মহলের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে বাইচ। গঙ্গার দুই পারে তৈরি হয় বিভিন্ন দল। শুরু হয় বাইচ প্রতিযোগিতা। তৈরি হয় প্রতিযোগিতার নানা আইনকানুন। বরানগর আঞ্চলিক ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নিখিলবঙ্গ নৌ-বাহন সংঘ। সতীশচন্দ্র উত্তরপাড়া লাইব্রেরির ঘাট থেকে বরানগরের এক মন্দির ঘাট পর্যন্ত (কাচের মন্দিরের ঘাটের উত্তর দিকের ঘাট) দীর্ঘ দূরত্বের প্রতিযোগিতা আরম্ভ করেন। বাইচের সঙ্গে সতীশচন্দ্রের আগ্রহ ছিল পায়রা পোষাতেও। তিনি ক্যালকাটা হোমিং পিজিয়ন ক্লাব নামে একটি সংস্থা গঠন করেছিলেন। নানা ধরনের সামাজিক ও কল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন। তাঁর আদি নিবাস ছিল উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসতে। বাংলা ও সংস্কৃত শিক্ষার মধ্যে দিয়ে সতীশচন্দ্রের শিক্ষাজীবন শুরু হয়। শিক্ষাপর্ব শেষে তিনি ‘তর্কলঙ্কার’ উপাধি পেয়েছিলেন।