‘বিচারক’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ লেখার অপরাধে ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সরকার তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। বরানগরের প্রখ্যাত কবি নির্মল দাস আজ এক বিস্মৃতপ্রায় নাম। তাঁর মৃত্যুর পর দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে ৬৫টি বছর। নতুন প্রজন্মের কাছে অজানাই রয়ে গিয়েছে প্রাচীন জনপদের এই কবির নাম। মাত্র ৪৬ বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছিল নির্মল দাসের। তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ২৮ বছর বয়সে, নাম ‘বহ্নিবন্যা’ (প্রকাশকাল ১৩৪৯ বঙ্গাব্দ)। তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা গ্রন্থ হল—‘মৃত্যু মাদল’, ‘আলহিলাল’, ‘শিবিরের স্বপ্ন’। প্রয়াত ইতিহাসবিদ অজিত সেন তাঁর বরানগর আঞ্চলিক ইতিহাস গ্রন্থে এই কবির সম্পর্কে বিস্তৃত বিবরণ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘কবি নির্মল দাস শুধুমাত্র কবি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন না। তিনি বরানগরে বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। বরানগর থেকে প্রকাশিত প্রখ্যাত ‘পরাগ’ ও ‘প্রত্যহ’ পত্রিকার সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। একসময় এই দু’টি পত্রিকা বরানগরে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। ব্যক্তি মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অমায়িক, স্বল্পভাষী, বন্ধুবৎসল ও নম্র স্বভাবের।’ ১৩৮৮ বঙ্গাব্দে এই বিখ্যাত কবির নানা লেখা নিয়ে হুগলি থেকে প্রকাশিত ‘মৃন্ময়ী’ পত্রিকায় সুদীর্ঘ প্রতিবেদন লিখেছিলেন গবেষক অজিত সেন। বিস্মৃতপ্রায় এই কবিকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় করে রাখতে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তুলেছেন বরানগরের বাসিন্দারা।



