দু’বছর আগে নিঃশব্দে চলে গিয়েছে প্রয়াত গবেষক ও নাট্যকার বৈদ্যনাথ হালদারের জন্মশতবর্ষ। বৈদ্যনাথবাবুর একটি বইয়ের ভূমিকা লিখেছিলেন সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। সেখানে তিনি এই প্রখ্যাত নাট্যকারকে ‘বরানগরের ম্যাক্সিম গোর্কি’ আখ্যা দিয়েছিলেন। কিন্তু বরানগর কুঠিঘাট সংলগ্ন নন্দলাল দে স্ট্রিটের এই বাসিন্দার নাম আজ চলে গিয়েছে বিস্মৃতির অন্তরালে। এমন একজন নাটক পাগল মানুষের স্মৃতিতে বরানগরে নেই কোনও রাস্তার নামও। নাট্য জগতের মানুষের কাছে ‘ধ্রুবতারা’ হিসেবে রয়ে গিয়েছেন বৈদ্যনাথবাবু। একসময় বরানগরে ‘সর্বরূপী’ নামে একটি নাট্য সংস্থা গড়ে তুলেছিলেন। এই সংস্থা ১৯৭০ সালের ২৬ জানুয়ারি দেশাত্মবোধক নাটক ‘রক্তে আঁকা আলপনা’ মঞ্চস্থ করে বরানগরের ঝড় তুলেছিল। নাটকটির রচয়িতা ও নির্দেশক ছিলেন বৈদ্যনাথবাবু। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ এক সময়ে জনমানসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা’ (দু’টি একাঙ্ক নাটকের সংকলন)। প্রথম প্রকাশ ১৩৭৫ বঙ্গাব্দ। এছাড়াও রয়েছে ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত ‘ত্রিধারা’ (তিনটি একাঙ্ক নাটকের সংকলন), ‘অবিচার’ (পূর্ণাঙ্গ নাটক)। এছাড়াও বৈদ্যনাথবাবুর লেখা পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ নাটক এক সময় বহু মঞ্চে অভিনীত হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে—‘বাস্তব’, ‘ভগ্ন প্রাসাদ’, ‘ঝটিকা’, ‘রক্তে আঁকা আলপনা’ ও ‘শতাব্দীর ইতিহাস’। এছাড়াও বরানগর, কাশীপুর, দক্ষিণেশ্বর নিয়ে তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থ আঞ্চলিক ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে অবশ্যই পথ প্রদর্শক হয়ে রয়েছে। তাঁর গবেষণার ফসল হিসেবে উল্লেখযোগ্য দু’টি গ্রন্থ রয়েছে। একটি হল—‘বরণীয় নগরের চারপাশ’ (স্মৃতিনির্ভর কাহিনী গ্রন্থ)। অন্যটি হল ‘কলকাতা, কাশীপুর, বরানগর, দক্ষিণেশ্বরের কিছু অতীত দিনের কথা’।



